রংপুর প্রতিনিধি:
রংপুরে নিজ কিশোরী মেয়েকে ধর্ষণ মামলায় বাবা মমিনুল ইসলামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একইসঙ্গে এক লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে রংপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত ২-এর বিচারক রোকনুজ্জামান আসামির উপস্থিতিতে এ রায় দেন।
জানা গেছে, রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মান্দ্রাইন বাঁধের পাড় এলাকায় পরিবারসহ বসবাস করত ওই কিশোরী। জীবিকার তাগিদে তার বাবা-মা চায়ের দোকান করতেন। দিনে তার মা দোকানে বসার সুযোগে বাবা বাড়িতে মেয়েকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। এমনকি বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য নানা ভয়ভীতি দেখান।
২০১৭ সালের ১১ মার্চ সকালে বাড়িতে একা পেয়ে বাবা আবার মেয়েকে ধর্ষণ করেন বাবা। পরদিন ওই কিশোরী পরিবারের কাউকে কিছু না জানিয়ে ঢাকার উদ্দেশে বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। ওই সময় নগরীর শাপলা চত্বরে বাসস্ট্যান্ডের কাছে এক অটোরিকশা চালক কিশোরীকে দেখতে পেয়ে একটি খাবারের হোটেলে রাখে। বিষয়টি জানতে পেরে ওইদিন রাত ১১টার দিকে ওই কিশোরী মেয়েকে বাড়িতে নিয়ে আসেন তার মা।
পরে বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করলে মাকে সবকিছু খুলে বলে ওই কিশোরী। এ ঘটনায় ২০১৭ সালের ১৩ মার্চ গঙ্গাচড়া থানায় স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেন ওই কিশোরীর মা। মামলার সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে আদালত বাবার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করেন।
সরকারপক্ষের আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম তুহিন জানান, ঘটনাটি নেক্কারজনক। এই রায়ে আমরা খুশি। আর কোনো বাবা যেন এ রকম জঘন্য কাজ করতে না পারেন সেজন্য এই রায় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
Leave a Reply