নিজস্ব প্রতিবেদক:
সরকারি ব্যাংকের পর্ষদ গঠন, চেয়ারম্যান, পরিচালক, তাদের প্রভাব, ঋণ বিতরণ পদ্ধতিসহ নানা বিষয়ে জানতে চেয়েছে ঢাকায় সফররত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রতিনিধি দল।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, বৈঠকে আইএমএফের প্রতিনিধিরা জানতে চান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান কি কাজ করেন। রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকের সমস্যা, সংস্কার, কার্যক্রম, পরিচালনা পর্ষদের গঠন, বিভিন্ন ব্যাংকের অনিয়মের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা, ১০টি দুর্বল ব্যাংকের জন্য নেওয়া উদ্যোগ, ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১, ফরেন এক্সচেঞ্জ রেগুলেশন (সংশোধন) আইনসহ ৫টি অন্যতম আইনের বিষয়ে জানতে চেয়েছেন।
এ ছাড়া দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে সাবেক আমলাদের। সচিব এবং সিনিয়র সচিব পদমর্যাদার এসব আমলারা ব্যাংক পরিচালনায় কতটুকু ভূমিকা রাখছেন এবং কীভাবে রাখছেন একই সঙ্গে তাও জানতে চেয়েছে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।
সোমবার (৩১ অক্টোবর) আইএমএফের এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের প্রধান রাহুল আনন্দের নেতৃত্বে সংস্থাটির প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেয়। ওই বৈঠকে এসব প্রশ্ন তোলেন তারা।
এর আগে এ প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ ব্যাংক ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে। এসব বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, ডেপুটি গভর্নর একে এম সাজেদুর রহমান ও আবু ফরাহ মো. নাছের।
বৈঠকে উপস্থিত এক কর্মকর্তা জানান, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সঙ্গে বৈঠকের শুরুতে আমাদের বোর্ড মিটিংয়ের অ্যাজেন্ডাগুলো কীভাবে নির্ধারিত হয়, কী কী বিষয় স্থান পায়, কীভাবে আলোচনা হয় তা জানতে চায় আইএমএফের প্রতিনিধি দল।
তারা জানতে চান, ঋণ পুনঃতফসিল করতে বোর্ড মিটিংয়ে অ্যাজেন্ডা থাকে কি না, কীভাবে তা পুনঃতফসিল করা হয়, রিশিডিউল করতে কোনো চাপ থাকে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আর ব্যাংকের চেয়ারম্যানই সাবেক আমলা ও সচিব পর্যায়ের লোকজন সরকারের খুব ঘনিষ্ঠজন হওয়ায় তাদের ভূমিকা আলোচনা করেন তারা।
এ সময় ডলারের বিপরীতে টাকার মান বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়ে তাদের পক্ষ থেকে।
তাদের মতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে একটি দেশের খেলাপি ঋণের হার সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ হতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশে এ হার প্রায় ৯ শতাংশ। অপরদিকে শুধু রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর খেলাপির হার ২০ শতাংশের বেশি যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আইএমএফ প্রতিনিধি দল।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক জিএম আবুল কালাম আজাদ বলেন, আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সব আলোচনাই ফলপ্রসূ হচ্ছে। আইএমএফের চাওয়া সব তথ্য সরবরাহ করা হচ্ছে।
আইএমএফের প্রতিনিধি দলটি আগামী ৯ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে অবস্থান করবে।
Leave a Reply