চরফ্যাসন(ভোলা)প্রতিনিধিঃ
ভোলার চরফ্যাসনের শশীভূষণ থানার চর কলমী ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মাসুম মিয়ার বিরুদ্ধে গরু চোর চক্রের সাথে আতাঁত করে গ্রামবাসীর হাতে আটক দুই চোর চক্রের সদস্যকে ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। তিনি এসময় গরু চুরির কাজে ব্যবহারিত ট্রলার জব্দ করেন। পরে চোর চক্রের সাথে আতাঁত করে টাকার বিনিময় চোর চক্রের সদস্যদের ছেড়ে দেন। টাকা ভাগাভাগি নিয়ে সেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি মাসুম মিয়ার সাথে স্থানীয় একটি দলের বিপত্তি শুরু হলে ঘটনাটি প্রকাশ পায়। বিষয়টি গড়ায় থানা পুলিশ পর্যন্ত । ঘটনার ৫দিন পর শশীভূষণ থানা পুলিশ সেচ্ছা সেবকলীগ সভাপতির হেফাজতে থাকা চুরির কাজে ব্যবহারিত ট্রলারটি জব্দ করে জিম্মায় নেন।
স্থানীয়রা জানান, গত ২১ জানুয়ারী চর কলমী ইউনিয়নের চর মায়া গ্রামের মোসলেম মোল্লার গরুর খোয়াড়ে হানা দেয় চোর চক্র । এসময় চোর চক্রের সদস্যরা গোয়াল থেকে একটি গরু চুরি করে ট্রলারে উঠানোর সময় স্থানীয়রা তজমুদ্দিন উপজেলার গরু চোর চক্রের সদস্য শরীফ ও আবদুর রবকে হাতে নাতে আটক করেন গ্রামবাসী। রাতেই খবর পেয়ে চরকলমী ইউনিয়নের সেচ্ছসেবক লীগের সভাপতি মো. মাসুম গ্রামবাসীর হাত থেকে চোর চক্রের সদস্যদের উদ্ধার করে ৩০ হাজার টাকার বিনিময় দরফারফা করে মুক্তি দেন। চুরির কাজে ব্যবহারিত ট্রলারটি আটক করে আরো ৫০ হাজার টাকা দাবী করেন। ট্রলারটি তার দাবীকৃত টাকা দিয়ে ছাড়িয়ে নেয়ার শর্তে চোর চক্রের সদস্যরা মুক্তি পেয়ে চলে যান।
চোর চক্রের কাছ থেকে আদায় করা টাকা নিয়ে বিপত্তি শুরু হলে ঘটনাটি পুরো গ্রাম চাউর হয়। টাকা ভাগাভাগি নিয়ে সেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি মাসুম মিয়া সাথে স্থানীয় বেল্লাল, শাহাবুদ্দিন, সুলতান , হাবিবের বিপত্তি শুরু হলে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। ঘটনার ৫দিন পর শশীভূষণ থানা পুলিশ চোরের ব্যবহারিত সেচ্ছা সেবকলীগ নেতার হেফাজতে থাকা ট্রলারটি জব্দ করে জিম্মায় নেন।
স্থানীয়রা আরো অভিযোগ করেন, চর কলমী ইউনিয়নের সেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি মো. মাসুম মিয়া টাকার বিনিময়ে চোর চক্রকে ছেড়ে দেয়ার পর গ্রামবাসীরা প্রতিবাদ জানালে তার অপকর্মকে আড়াল করতে তিনি থানা পুলিশের সাথে হাত মিলিয়ে প্রতিবাদকারীদের ঘায়েল করতে নানান ভাবে পুলিশ দিয়ে ও নিজে প্রকাশ্যে হয়রানী শুরু করেন। তার হুমকি ধামকিতে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে ওই গ্রামের মানুষ।
চর কলমী ইউনিয়নের সেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি মো. মাসুম মিয়া জানান, বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে আমার বিরুদ্ধে চোর চক্রকে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ সঠিক নয়।
শশীভূষণ থানার ওসি মোঃ মিজানুর রহমান পাটোয়ারী জানান, চোর চক্রকে পাওয়া যায়নি। তবে চুরির কাজে ব্যবহারিত ট্রলারটি উদ্ধার করে স্থানীয় ইউপি সদস্যের জিম্মায় রাখা হয়েছে। চোর চক্রের সদস্যকে শনাক্ত করে আইনের আওয়াতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।
Leave a Reply