নিজস্ব প্রতিবেদক:
জমি কেনার নামে বাসায় ডেকে বিক্রেতা বা মধ্যস্থতাকারীকে মারধর এবং জিম্মি করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁরা হলেন- আব্দুল হালিম ও ইয়াসমিন আক্তার।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রাজধানীর মিরপুরের পাইকপাড়া এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, গত দুই বছর ধরে জমি কেনার নামে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন হালিম ও ইয়াসমিন। ঢাকা এবং আশপাশের জেলায় কেউ জমি বিক্রি করছে খবর পেলে দালাল সেজে ছুটে যেতেন হালিম। বিক্রেতা কিংবা মধ্যস্থতাকারীকে বলতেন, জমির ক্রেতা ইয়াসমিন মিরপুরে থাকেন। তাঁর বাসায় বসে আলোচনা করে জমির দাম চূড়ান্ত করতে হবে। তাঁদের ফাঁদে পা দিয়ে ওই বিক্রেতা বা মধ্যস্থতাকারী বাসায় গেলেই তাঁদের আটকে মারধর করে মুক্তিপণ আদায় করা হতো।
মিরপুর থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন জানান, হালিম অনেক আগে থেকেই প্রতারণার মাধ্যমে মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিতেন। ইয়াসমিন তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী। ইয়াসমিনেরও দ্বিতীয় স্বামী তিনি। ২০২১ সালে বিয়ে হয় তাঁদের। এর পর থেকেই স্বামী-স্ত্রী জমি বেচাকেনার নামে প্রতারণা শুরু করেন।
পুলিশ জানায়, হালিমের গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া থানার আটকাপাড়ায়। ইয়াসমিনের বাড়ি বরিশালের গৌরনদী থানার লাখেররাজ কসবায়। চক্রের অন্য দু’জনের মধ্যে রাসেল হাওলাদারের গ্রামের বাড়ি বরগুনার বেতাগী থানার কাউনিয়া এবং রবিউল আওয়ালের চাঁদপুর জেলা সদরের দাসাদি গ্রামে। তাঁরাও মিরপুরের মধ্য পাইকপাড়ায় বসবাস করতেন। কিছুদিন আগে মানিকগঞ্জের সিংগাইরের বিল্লাল হোসেনের জমি কেনার আগ্রহ দেখান হালিম। এ সময় হালিম বলেন, মূল ক্রেতা ঢাকার মিরপুরে আছেন। তাঁর সঙ্গে বসে আনুষ্ঠানিকতা সারতে হবে। পরে ফোনে ইয়াসমিন বিল্লালকে মিরপুরের একটি বাসায় ডাকেন। বিল্লাল ওই বাসায় গেলে হালিম, ইয়াসমিনসহ তাঁদের চক্রের আরও ৪-৫ জন তাঁকে আটকে ফেলেন। একটি কক্ষে নিয়ে বিল্লালকে মারধর করে তাঁর সঙ্গে থাকা সাড়ে ৭ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে বিল্লালের বাসায় ফোন দিয়ে বিকাশের মাধ্যমে আরও ৩৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন হালিম ও ইয়াসমিন। এ ঘটনায় মিরপুর থানায় মামলা করেন বিল্লাল। এ ধরনের পৃথক একটি ঘটনায় গত অক্টোবরে সাভারের এক ব্যক্তি মামলা করেছিলেন হালিম-ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে।
Leave a Reply