নিজস্ব প্রতিবেদক:
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের স্বাক্ষর জাল করে জাতীয় শ্রমিক লীগ ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি অনুমোদনে সুপারিশ নেওয়া হয়েছে। জাতীয় শ্রমিক লীগের প্যাডে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এই আবেদন করা হয়। আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করেছেন সংগঠনের উত্তরের আহ্বায়ক মো. আজিজুল হাকিম ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন পলাশ। একই দিন ৫১ সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে!
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বরাবর দেওয়া শ্রমিক লীগের চিঠিটি গতকাল রোববার যুগ যুগান্তরের হাতে এসেছে। এরপর যুগ যুগান্তরের পক্ষ থেকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর দপ্তরে চিঠিটি পাঠানো হয়। মন্ত্রীর দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা আবেদনে মন্ত্রীর স্বাক্ষরটি জাল বলে নিশ্চিত করেন। সেইসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে চিঠিটি দেখানো হবে বলেও দপ্তর থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
কেন স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে—এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শ্রমিক লীগের ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব মো. ইকবাল হোসেন পলাশ যুগ যুগান্তরকে বলেন, আমরা সরাসরি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের কাছে চিঠিটি নিয়ে যাইনি। এক ভাইয়ের মাধ্যমে কমিটি অনুমোদনে সুপারিশ আনতে চিঠিটি পাঠানো হয়েছিল। তিনি দলের সাধারণ সম্পাদকের সুপারিশসহ স্বাক্ষর এনে দিয়েছেন। তবে স্বাক্ষর জাল হওয়ার কথা নয়। এ ব্যাপারে কমিটির আহ্বায়ক মো. আজিজুল হাকিম ভালো বলতে পারবেন। তিনি আহ্বায়কের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। এরপর মোবাইল ফোনে আহ্বায়কের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।
শ্রমিক লীগের ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির অনুমোদনের জন্য ২৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বরাবর লিখিত আবেদন করা হয়। মুজিবীয় সালাম ও শুভেচ্ছা জানিয়ে আবেদনে বলা হয়, ‘আমরা আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, জাতীয় শ্রমিক লীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরের প্রস্তাবিত কমিটি আপনাদের কাছে অনুমোদনের জন্য পেশ করলাম। উল্লেখ্য যে, প্রস্তাবিত সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি প্রদানের জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি। অনুমোদনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।’
লিখিত আবেদনে তিনজনের স্বাক্ষরসহ সুপারিশ রয়েছে। ‘যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক’—এ কথা উল্লেখ করে সিলসহ স্বাক্ষর দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। যে স্বাক্ষরটি জাল বলে মন্ত্রীর দপ্তর থেকে দাবি করা হয়েছে।
এরপর ‘সদয় বিবেচনার জন্য সুপারিশ করছি’—এ কথা লিখে আবেদনে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনের সিলসহ স্বাক্ষর রয়েছে। অনুমোদন দেওয়া হলো এ কথা উল্লেখ করে জাতীয় শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক কে এম আযম খসরুর স্বাক্ষর রয়েছে। কাগজপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, মন্ত্রীদের স্বাক্ষরিত আবেদনপত্রে কোনো তারিখ উল্লেখ নেই। তা ছাড়া যেদিন মন্ত্রীদের কাছে সুপারিশের জন্য আবেদন পাঠানো হয়, সেদিনই কমিটি অনুমোদন দিতে দেখা গেছে।
জাতীয় শ্রমিক লীগের পক্ষে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এই কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। জাতীয় শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক কে এম আযম খসরু স্বাক্ষর করা অনুমোদিত কমিটির চিঠির একাংশে বলা হয়েছে, ‘ঢাকা মহানগর উত্তরের কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম না থাকায় সংগঠনকে গতিশীল ও শক্তিশালী এবং বিএনপি-জামায়াতের নৈরাজ্য, অগ্নিসন্ত্রাস ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এই কমিটি দায়িত্বশীল ভূমিকা ও সাহসের সঙ্গে পালন করবে। ঢাকা মহানগর উত্তর জাতীয় শ্রমিক লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক মো. আজিজুল হাকিম ও সদস্য সচিব মো. ইকবাল হোসেন পলাশের নেতৃত্বাধীন ৫১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি সম্মেলন করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের (এমপি) নির্দেশক্রমে এবং শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন (এমপি) এবং আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন ও ড. মীর্জা আব্দুল জলিলের সুপারিশক্রমে এই কমিটি জাতীয় শ্রমিক লীগের গঠনতন্ত্র ১৫-এর (ঘ) ধারা অনুযায়ী ছয় মাসের জন্য অনুমোদন প্রদান করা হলো এবং পূর্বের কমিটি বিলুপ্ত করা হলো।’
Leave a Reply