বিশ্ববিদ্যালয়প্রতিনিধি:
পিঠা উৎসব। ছবি
দেশের লোকজ ঐতিহ্যের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার শীতকালীন পিঠা। বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির এই অনুষঙ্গকে ঘিরে গ্রামীণ সমাজে রয়েছে উৎসবের রেওয়াজ। ইদানিংকালে যা থেকে বাদ যায় না শহরের মানুষও। প্রতি শীতেই পিঠার পসরা সাজিয়ে গ্রাম-শহরের মোড়ে মোড়ে বসে যান বিক্রেতারা। ঘরে ঘরে শুরু হয় পিঠার উৎসব।
শীত শেষে বসন্ত এসে গেছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গাছের নিচে এখন শুকনো পাতার মর্মর ধ্বনি। আর ওপরের দিকে তাকালেই নতুন পাতার হালকা সবুজের আভা। এমন সময়েই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগে হয়ে গেল পিঠা উৎসব।
পাতা ঝরার বসন্তের আগমনে ক্যাম্পাসের ভ্রাম্যমাণ পিঠার দোকানগুলো যখন বিক্রেতারা গুটিয়ে নিচ্ছেন তখন বাহারি সব পিঠায় রঙিন হয়ে উঠেছিল জাহাঙ্গীরনগরের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের করিডর। এতে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের। বাদ যাননি কর্মকর্তা কর্মচারীরাও।
সোমবার (২০ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। পিঠা উৎসব উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিকী অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হক।
আয়োজকেরা জানান, বাংলাদেশের গ্রামীণ সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করিয়ে দিতেই এই আয়োজন।
পিঠা উৎসবের আনন্দ ভাগ বসাতে আসা অন্যান্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষার্থী জুনায়েদ আহমেদ বলেন, পিঠা উৎসবে অংশগ্রহণ করে ভালো লেগেছে। আবহমান গ্রামীণ সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে এই আয়োজন। পিঠা উৎসবে এসে গ্রামের কথা মনে পরেছে। অনেকদিন বাদে একসঙ্গে এতজন মিলে পিঠা খেয়েছি, এমন উৎসবের তাই জুড়ি মেলা ভার।
আরেক শিক্ষার্থী মিজানুর বলেন, বাড়ি থেকে দূরে থাকার কারণে সেভাবে পিঠা খাওয়া হয়ে ওঠে না। বিভাগে এ ধরনের আয়োজন খুবই ভালো লেগেছে। সহপাঠী ও শিক্ষকসহ সবার অংশগ্রহণে আয়োজন বেশ প্রাণবন্ত ছিল। শীত শেষে হলেও আয়োজনটি সফল ছিল।
এ বিষয়ে সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক রাকিব আহমেদ বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের
সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ প্রতিবছর নিয়মিত বিরতিতে শিক্ষা-কার্যক্রমের পাশাপাশি বিভিন্ন উৎসব অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এরই ধারাবাহিকতায় এ বছর শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণে পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এ আয়োজনকে সফল করতে সাহায্য করেছে।
Leave a Reply