শিরোনাম :
গাজীপুরে ৫ হত্যা : ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ যাচ্ছে গোপালগঞ্জে ‎সৈয়দপুর ৫ বছরে দুই কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে: শিল্পমন্ত্রী নীলফামারীর ১০০০ শয্যার হাসপাতাল পরিদর্শনে চীনা প্রতিনিধিদল ঠাকুরগাঁওয়ে পরিত্যক্ত রিভলভার উদ্ধার দেশের সন্ধ্যার মধ্যে ৭ অঞ্চলে কালবৈশাখী ঝড়ের শঙ্কা অস্ট্রেলিয়ায় উপনির্বাচনে ডানপন্থী দলের ঐতিহাসিক জয় নোয়াখালীর ৫৪ বছর পর বাড়ি ফিরলেন সাগরে হারিয়ে যাওয়া জেলে ইরানের ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় সংরক্ষণের প্রস্তাব পুতিনের রাজারবাগ পুলিশ সপ্তাহ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী আলমডাঙ্গার ভাংবাড়ীয়ায় আম-লিচু বাগান নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ দুই পক্ষের ৮ জন আহত, গুরুতর ২; দেশীয় অস্ত্রসহ আটক ৪
যোগাযোগ :

ঢাকা থেকে প্রকাশিত, সরকারি মিডিয়া তালিকা ভুক্ত, জাতীয়  দৈনিক যুগযুগান্তর পত্রিকায় ও যে যে টিভি... জেলা উপজেলা, বিশেষ প্রতিনিধি, ক্রাইম রিপোর্টার, বিভাগীয় প্রধান, ক্যাম্পাস প্রতিনিধি, বিজ্ঞাপন প্রতিনিধি নেওয়া হচ্ছে..। আগ্রহীদের সিভি পাসপোর্ট সাইজের ছবি এন আইডি কার্ড এর কপি এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট মেইল অথবা হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানোর অনুরোধ করা হলো। প্রধান কার্যালয়: ২৮, দিলকুশা বানিজ্যিক এলাকা (১৯ তম তলা), সুইট # ১৯০৩, মতিঝিল, ঢাকা - ১০০০। মোবা: 01978268378, হোয়াটসঅ্যাপ: 01612268378, ইমেইল: nskibria2012@gmail.com, শাখা অফিস : ১৮৭/২ আরামবাগ, ঢাকা। প্রধান কার্যালয়: ২৮, দিলকুশা বানিজ্যিক এলাকা (১৯ তম তলা), সুইট # ১৯০৩, মতিঝিল, ঢাকা - ১০০০। মোবা: 01978268378, হোয়াটসঅ্যাপ: 01612268378 ইমেইল: nskibria2012@gmail.com, শাখা অফিস : ১৮৭/২ আরামবাগ, ঢাকা।

বঙ্গবাজারে ৮০ লাখ টাকার ছাই উড়িয়ে মিলল কয়েন

বঙ্গবাজারে ৮০ লাখ টাকার ছাই উড়িয়ে মিলল কয়েন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাঁ হাতের তালুতে কয়েকটা পোড়া কয়েন। সেগুলো দেখিয়ে ব্যবসায়ী আবুল হোসেন বলছিলেন, ‘ভাইরে এই ছিল কপালে! মঙ্গলবারও ক্যাশে ছিল ৫ লাখ ১৫ হাজার টাকা। আর দুই দোকান মিলিয়ে ৮০ লাখ টাকার মতো মালপত্র। সব পুড়ে ছাই। তিন সন্তান ও আর স্ত্রীকে কীভাবে সান্ত্বনা দেব?’
বঙ্গবাজারের ১১১৮ ও ১১১৯ নম্বর দোকানের মালিক আবুল। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নাম ‘রাখি গার্মেন্টস’। গতকাল বুধবার ধ্বংসস্তূপে নিজ দোকানের পোশাক ও ক্যাশবাক্স খুঁজছিলেন। তবে কোনো কিছুই অক্ষত নেই। শেষ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি পোড়া কয়েন খুঁজে পান। আবুল বলেন, ‘জানতাম ক্যাশবাক্সের নগদ টাকাও পুড়ে গেছে। তার পরও বারবার মনে হচ্ছিল, টাকাটা পাব। কিন্তু পেলাম না। ব্যাংক থেকে ১৯ লাখ টাকা ঋণ করেছি। মফস্বলেও বিভিন্ন পার্টির কাছে ২৫ লাখ টাকা পাব। আগুন লাগার কথা জেনে কয়েকজন ফোন করে খবর নিয়েছেন। দয়া করে যদি তাঁরা পাওনা টাকা ফেরত দেন। তবে কার কাছে কত টাকা পাব– এমন কোনো চিহ্ন নেই।’

আবুল জানান, বঙ্গবাজারের মতো পাইকারি মার্কেটে সাধারণত ২০ রোজার মধ্যে কেনাবেচার অধিকাংশ হয়ে যায়। এর মধ্যে বাইরের পার্টি পোশাক কেনা শেষ করে। ইসলামপুর থেকে পোশাক এনে ব্যবসা করেন তিনি। সেখানে কয়েকজন দোকানি তাঁর কাছে ৩০ লাখ টাকার মতো পাবেন। হাজি তালুকদার নামে একজনই পাবেন ১৭ লাখ টাকা। এরই মধ্যে টাকা শোধ করার ব্যাপারে খোঁজ নিয়েছেন তিনি। ২৫ রোজার পর ওই টাকা শোধ করার কথা ছিল। আবুল বলেন, ‘এখন না পারব দেনা শোধ করতে, না পারব আমার পাওনা তুলতে।’

সিদ্দিকবাজারের একটি কারখানায় কিছু পোশাক রয়েছে। কয়েকজন ব্যবসায়ীর কাছে তা বিক্রি করার চেষ্টা করছি। পুরো বছরই বাকিতে পোশাক কিনে বিক্রি করি। রোজার সময় ধারদেনা সব চুকিয়ে দেওয়া হয়।’

আলমগীর হোসেন ও তাঁর স্ত্রী সাকিনা আক্তার বঙ্গবাজারে তাঁদের দোকানের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁদের প্রতিষ্ঠানের নাম তানহা গার্মেন্টস। সাকিনা বলেন, ১০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ব্যবসা দাঁড় করাই। এখন পথে বসার অবস্থা। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়াই কঠিন হবে।
সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের পাশে দোকানের পুড়ে যাওয়া টাকার বাক্স হাতে দেখা যায় সাদ্দাম হোসেন নামে এক দোকানিকে। কান্নাাজড়িত কণ্ঠে সাদ্দাম জানালেন, দশ বছরের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করেছেন। গত জানুয়ারিতে জমি বিক্রি ও ধারদেনা করে নিজেই একটি দোকান দেন। কিন্তু তা এখন অতীত। দোকানে ছিল ৫০ হাজার টাকা ও ৫ লাখ টাকার পণ্য। অগ্নিকাণ্ডে অন্যান্য দোকানের মতো সাদ্দামের দোকানও পুড়ে ছাই। তাঁর বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার দরবেশপুরে।
সাদ্দাম বলেন, ‘১০ বছর যাবত অনেক কষ্ট করছি। খেয়ে না-খেয়ে টাকা জমিয়ে তিন মাস হইছে দোকান দিলাম। আজ আমি নিঃস্ব। বাড়িতে আব্বা-আম্মা অসুস্থ। আমি কোথায় যাব? কিছু জায়গা-সম্পত্তি ছিল, সেগুলো বিক্রি কইরা দোকান দিছি। প্রতিদিন আব্বা-আম্মার জন্য ওষুধ কেনা লাগে, এখন তাঁদের ওষুধ কিনে দিব কেমনে?’ সাদ্দাম আরও বলেন, সরকার যেন তাঁদের জন্য কিছু করে। সরকারের পক্ষ থেকে কিছু করা না হলে হয়তো বা আবার কোনো এক দোকানে চাকরি করে খেতে হবে।

মো. ইসমাঈল নামে এক দোকান কর্মচারী বললেন, ‘মালিক লিটন হোসেনের চারটা দোকান ছিল। প্রায় আড়াই কোটি টাকার মালপত্র ছিল। কিছুই বের করতে পারিনি। সব শেষ। দোকানের মেমো কাগজপত্র ছিল, কাকে কত টাকা বাকি দিছি, সেগুলোও নাই। প্রায় সত্তর লাখ টাকার বাকি ছিল। হিসাব ছাড়া কারে কী বলব? মালিক তো বোবা হয়ে আছেন শোকে। কী করব কিছুই বুঝতেছি না। সবকিছু দুঃস্বপ্নের মতো মনে হইতেছে।’

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 jujugantor.com
Theme Customized BY SpacialNews.Com