মুহ. মিজানুর রহমান বাদল,
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার চান্দহর ইউনিয়নের সিরাজপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের রিক্সা
মেকানিক আনোয়ার হোসেন (৪১) চাঁদাবাজির মামলা করে আসামীদের ভয়ে পালিয়ে
বেড়াচ্ছেন। মামলার প্রধান আসামি মিলনসহ অন্যরা মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছেন
বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মামলার বাদী আনোয়ার হোসেন উপজেলার চান্দহর
ইউনিয়নের আটিপাড়া গ্রামের মৃত ছোবান মোল্লার পুত্র।সে বর্তমানে মুজিবর্ষ
উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে জমিসহ ঘরের বাসিন্দা।
অন্যদিকে, মামলার আসামীরা হচ্ছেন- একই গ্রামের মো. হাকিম আলীর ছেলে মিলন
(৩০), মৃত হজরত আলীর ছেলে আবুল কালাম (৪৫), মৃত হোসেন আলীর ছেলে আব্দুল হাকিম
(৫৫), মৃত আফাজুদ্দিনের ছেলে নাজিম (২৮) ও নান্নুর ছেলে মেহেদীসহ (২৭) আরো
অজ্ঞাত ৪-৫জন।
ভুক্তভোগী আনোয়ার হোসেন ও সিরাজপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা ও এলাকাবাসী
জানান, মামলার বাদী ১১২ নং ঘরে স্ত্রী, কন্যা ও শিশু পুত্র নিয়ে বসবাস করেন। ওই গ্রামের
মিলনসহ অন্যদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা করার পর থেকে আনোয়ার হোসেন গত ১৫
দিন ধরে পরিবারের লোকজন নিয়ে অন্যত্র বসবাস করছেন । তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটিও তালা
লাগিয়ে বন্ধ কর দেয়া হয়েছে। তারা আরো জানান, জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আনোয়ার
হোসেনের সাথে মিলনের দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে ইতিপূর্বে
আনোয়ার থানায় লিখিত অভিযোগ করেও ফল পাননি। সম্প্রতি তার সিরাজপুর বাজারে
‘ভাই-বোন অটো হাউজ’ নামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তালা লাগিয়ে দেন মিলন ও তার
লোকজন। এতে আনোয়ার বাদী হয়ে গত ২১ জুন মানিকগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল
ম্যাজিস্ট্রেট-১ এর আদালতে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। শুনানী শেষে
মামলাটি আদালত পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্ত দেন।
এদিকে, সরেজমিন গিয়ে সিরাজপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পে আনোয়ার হোসেনের পরিবারকে
পাওয়া না গেলেও কথা হয় তার বৃদ্ধা মা মজিরনের সাথে। ছেলের পালিয়ে থাকার বর্ণনার
সময় চোখে-মুখে আতংক নিয়ে স্ত্রী সন্তান সাথে করে এ প্রতিবেদকের সামনে
হাজির হন আনোয়ার হোসেন । তিনি প্রশাসনের কাছে তার পরিবার-পরিজনের নিরাপত্তা
দাবী করেন।
Leave a Reply