জাহাঙ্গীরনগর প্রতিনিধি:
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) অষ্টম দিনের মতো চলছে দৈনিক মজুরিভিত্তিতে কর্মরত অস্থায়ী কর্মচারীদের অবস্থান ধর্মঘট। তীব্র গরমে আন্দোলনরত ১২ জন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে অস্থায়ী কর্মচারীরা জানান।
চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে গত সোমবার (১৭ জুলাই) থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান ধর্মঘট পালন করছেন তারা। তাদের এক দফা দাবি হচ্ছে চাকরি স্থায়ীকরণ করা।
একাধিক অস্থায়ী কর্মচারীরা জানান, হয় মৃত্যু, নয়তো চাকরি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত চলবে তাদের অবস্থান ধর্মঘট।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী জানান, ‘২৭ জুলাই পর্যন্ত তারা অবস্থান ধর্মঘট পালন করবেন। এর পর তাদের দাবি আদায় না হলে আমরণ অনশনে বসবেন সবাই।
জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ১৪২ জন অস্থায়ী কর্মচারী আছেন। যাদের দৈনিক ৪০০ টাকা হারে মজুরি দেওয়া হয়। যা বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী খুবই কম। সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন বলে জানান তারা।
শুধু তাই নয় তাদের নেই কোনো ছুটি। একদিন ছুটিতে গেলে ওইদিন আর কোনো টাকা পান না।
একাধিক অস্থায়ী কর্মচারী কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে ২০২১ সাল থেকে এ পর্যন্ত তিনবার প্রশাসনকে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন এবং একই দাবিতে মানববন্ধন করা হলে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক রাশেদা আখতার অস্থায়ী কর্মচারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্থায়ীকরণের আশ্বাস দেন। চলতি বছরের ২ জানুয়ারি চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে আমরণ অনশনে বসেন তারা। তখন প্রশাসনের আশ্বাস ছিল ৬ মাসের মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিভিন্ন হল, বিভাগ ও অফিসসমূহে নিয়োগ দেওয়া হবে।
মৌখিক আশ্বাসের ভিত্তিতে অনশন স্থগিত করেন তারা। তবে আশ্বাসের ৬ মাস অতিবাহিত হলেও তার কোনো বাস্তবায়ন না হওয়ায় আবারও অবস্থান ধর্মঘটে বসেছেন তারা।
কর্মচারীরা আরো জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন হল এবং কিছু বিভাগে নতুন করে ৪১ জন কর্মচারীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে একজনও দৈনিক মুজুরি ভিত্তিতে কর্মরত কর্মচারীদের মধ্যে থেকে নয়।
প্রচণ্ড গরমের কারণে অবস্থান ধর্মঘট পালন করা কর্মচারীরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলেও জানা যায়। ফুড পয়জনিং, শ্বাসকষ্ট এবং জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন আন্দোলনরত ১৩ জন অস্থায়ী কর্মচারী। প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে। তবুও আন্দোলন করছেন তারা।
বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রের প্রধান মেডিক্যাল অফিসার ডা. শামছুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গত তিনদিনে আন্দোলনরত কয়েকজন কর্মচারী চিকিৎসা নিতে এসেছেন। মোট কতজন এসেছে তা আমি বলতে পারবো না।’
এ বিষয়ে জানতে উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
Leave a Reply