মুহ. মিজানুর রহমান বাদল,
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে দীর্ঘ ১৮ বছর পর আলোচিত খোরশেদ আলম হত্যা মামলার ৫
আসামীর যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছে আদালত।
যাবজ্জীবন প্রাপ্ত আসামীরা হলেন, উপজেলার চারিগ্রাম ইউনিয়নের জাইল্যা গ্রামের
আ. রশিদের ছেলে মো. শাহিনুর রহমান, দাশেরহাটি গ্রামের আহাম্মদ দেওয়ানের ছেলে
লিটন, একই গ্রামের আতোয়ারের ছেলে রিপন, দক্ষিণ চারিগ্রামের মৃত সামেজদ্দিনের
ছেলে মৃত উজ্জল ও যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গাবুরা গ্রামের মৃত মতলব মোড়লের ছেলে
শহিদুল ইসলাম।
সোমবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে মানিকগঞ্জ অতিরিক্ত দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক
সাবিনা ইয়াসমিন এ রায় দেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার গোবিন্দল গ্রামের
মালু বেপারীর ছেলে খোরশেদ আলম চারিগ্রাম বাজারে টেইলার্সের ব্যবসা করতেন। ২০০৫
সালের ২ অক্টোবর রবিবার রাতে সে প্রতিদিনের মত খোরশেদ আলম মোটরসাইকেল যোগে
বাড়িতে আসছিলেন। পথিমধ্যে দাসের হাটি গ্রামের চকে র্নিমাণাধীন সেতুর ঢালে
পৌছালে পূবর্ থেকে ওৎ পেতে থাকা অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন মুখোশধারী ব্যক্তিরা তার গতি
রোধ করে হত্যার উদ্দেশ্যে ডেগার দিয়ে এলোপাথারি আঘাত করে। এ সময় তার ব্যবহৃত
মোটরসাইকেল, মোবাইল ও নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় পরদিন সকালে
স্থানীরা আলমের ক্ষত-বিক্ষত মৃতদেহ দেখে থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ
উদ্ধার করে। এ ঘটনায় অজ্ঞাত ৪/৫ জনকে আসামী করে মামলা করা হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে
পুলিশ আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। এ ঘটনায় আসামীরা হাজত বাস করেন। এর মধ্যে
মামলার ৪ নং আসামী উজ্জল পালিয়ে বিদেশে পাড়ি জমায়। সেখানে চাকুরিরত অবস্থায়
উজ্জল মারা যায়। সোমবার দুপুরে ৩ আসামীর উপস্থিতে রায় ঘোষণা করা হয়। বিচারক ৪
আসামীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড ও ২০ হাজার টাকা অথদন্ড ও অনাদায়ে ৬ মাসের
সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন। এ মামলার অন্য আসামী শহিদুলকে ২ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও
৫ হাজার টাকা অথদন্ড অনাদায়ে আরো ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়। মামলার
অন্য পলাতক আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
Leave a Reply