জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
রমজানের দিন যত বাড়ছে রাজধানী ঢাকার সড়কে যানজট ততই বাড়ছে। শুরুর দিকে দিনের বেশিরভাগ সময় সড়ক কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও ধীরে ধীরে পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। বিশেষ করে টানা তিন দিন সরকারি ছুটির পর সোমবার (১৮ মার্চ) রাজধানী জুড়েই যেন ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র যানজট। বিশেষ করে দুপুর গড়াতেই রাস্তার পরিস্থিতি বেশি খারাপ হতে শুরু করে। এক জায়গায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হয়।
অবশ্য যানজটের ভোগান্তি কমাতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান নিজেই সড়কে বের হয়ে পরিস্থিতি তদারকি করছেন। তবুও সড়কে যানবাহনের চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
যানজটে আটকে থাকা লোকজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সড়কের ছবি পোস্ট করে দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকার কষ্টও শেয়ার করছেন। কেউ আবার অন্যকে সতর্ক করতে গুগল ম্যাপের ছবি পোস্ট করে সড়কের পরিস্থিতির জানান দিচ্ছেন।
বিকেল চারটার দিকে আগারগাঁও থেকে সেগুন বাগিচায় মোটরসাইকেলে আসা মফিজুল সাদিক নামের একজন যুগ-যুগান্তরকে বলেন, বাইকে আসতেও অনেক বেশি সময় লেগেছে। কারণ পুরো পথে জ্যাম। মূল সড়কের পাশাপাশি অলিগলিতেও ছড়িয়ে পড়েছে যানজট।
পুরো পথের চিত্র তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, আগারগাঁও থেকে কিছুটা স্বস্তিতে রওনা হলেও বিজয় স্মরণি এসে প্রথমে আটকে ছিলাম অনেক সময়। পরে ফার্মগেট পার হয়ে কারওয়ান বাজার এসে আবারও অপেক্ষা। লম্বা সময় পার হওয়ার পর সিগন্যাল ছাড়লেও বাংলামোটর পর্যন্ত আসতে সময় লেগেছে। শাহবাগের দিকে যানজট দেখে ভিআইপি রোড দিয়ে আসতে গিয়ে সেগুনবাগিচায় এসে যেন থেমে গেছি। কারণ শিল্পকলা একাডেমির আশপাশের অবস্থা অনেক খারাপ। যে যে অবস্থায় আছে সেভাবেই থাকতে হয়েছে।
ধানমন্ডি এলাকার যানজটের অবস্থা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নাজমুন নাহার রীতা লিখেছেন, সময় ৩টা ৫৩ মিনিট। সাতমসজিদ রোড যেন প্যাকেট করা। এক ঘণ্টা একই জায়গায় স্তুপ হয়ে আছি।
জাহিদুল ইসলাম নামে আরেকজন ফেসবুকে লিখেছেন, গুলিস্থান থেকে মহাখালী, মহাখালী থেকে বিপরীতে ফুল ব্লক। ইফতারির আয়োজন করেন!’
ঢাকার অন্যান্য এলাকার তুলনায় এমনিতেই বেশি যানজট প্রবণ এলাকা পুরান ঢাকা। দিনভর গোটা পুরান ঢাকায় কোথাও না কোথাও যানজট লেগেই থাকে। সোমবার বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অসহনীয় যানজট লক্ষ্য করা গেছে পুরান ঢাকায়।
বাবুবাজার ব্রিজ থেকে তাঁতীবাজার মোড় পর্যন্ত আসতে প্রায় এক ঘণ্টা বাসে বসে থাকা কলেজ শিক্ষক লাকী আক্তার আক্ষেপ করে বলেন, এই শহরটার কি কোনো মালিক নেই? কেউ মানুষের দুর্ভোগ দেখার মতো নেই? বাবুবাজার ব্রিজ থেকে তাঁতীবাজার আসতে এক ঘণ্টা লেগেছে। ফুটপাত দখল, রাস্তায় পিকআপ পার্কিং করা। পায়ে হাঁটারও সুযোগ নেই।
ফেসবুকে গুগল ম্যাপের ছবি পোস্ট করে একজন লিখেছেন, সবচেয়ে হাস্যকর ব্যাপার কি জানেন? মহাখালীর জ্যামের জন্য গুলশান-২ পর্যন্ত জ্যাম!
নতুন বাজার এলাকার একদিকের সড়কে কিছুটা চাপ কম দেখা গেলেও মূল সড়ক ও আশপাশের গলিতে তীব্র যানজটের তথ্য দিয়েছেন মো. মহসিন। তিনি জানান, নতুন বাজার, নর্দা, বাড্ডা এলাকার পুরো সড়কের বেহাল দশা। গাড়ির চাকা নড়ছে না।
তিনি আরও বলেন, নতুনবাজার থেকে রামপুরায় আসার পথে কোনো জ্যাম নেই। উল্টো রাস্তায় মেরুল বাড্ডা পর্যন্ত থমকে আছে।
এদিকে রমজানে ইফতারের আগে যাতে সড়কের পরিস্থিতি সহনীয় রাখা যায় সেজন্য ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বিশেষ ব্যবস্থা রাখার কথা জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান।
রমজান উপলক্ষে ডিএমপি এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানের ভাষ্য ছিলো, মানুষ যেন বাসায় গিয়ে প্রিয়জনের সঙ্গে ইফতার করতে পারেন সেই লক্ষ্যে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি ক্রাইম বিভাগও কাজ করবে। বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত আমাদের বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে। মার্কেটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ট্রাফিক সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবেন আমাদের ট্রাফিক ও ক্রাইমের অফিসাররা। যদিও বিশেষ পরিকল্পনা কী? সে বিষয়ে কিছু জানাননি তিনি।
অবশ্য ওই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ডিএমপি কমিশনার নিজে প্রতিদিন সড়কে বের হচ্ছেন বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের একজন কর্মকর্তা যুগ-যুগান্তরকে বলেন, আমাদের কাছেও তথ্য আছে আজকে যানজট পরিস্থিতি তুলনামূলক খারাপ। এরমধ্যেও আমাদের পক্ষ থেকে কাজ করা হচ্ছে। ডিএমপি কমিশনার যে উদ্যোগ নিয়েছেন সে কারণে কিছু কিছু এলাকায় ভালো খবর পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু সমস্যা হলো সাড়ে তিনটা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত সবাই বাসায় ইফতারের টাগের্ট করে বের হওয়ায় এই সময়ে বেশি যানজট হচ্ছে।
Leave a Reply