আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালীতে আটকে থাকা জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ অভিযান পুনরায় চালুর কথা বিবেচনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ কথা বলেন।
তবে এখনও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি।
ট্রাম্প জানান, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামের ওই সামরিক অভিযানটি গত সপ্তাহের মঙ্গলবার সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল, শুরু হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই।
পরে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প আবারও দাবি করেন, ইরানকে কোনওভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, “অনেকে বলছেন- আমার কোনও পরিকল্পনা আছে কি না। অবশ্যই আছে। আমার কাছে সবচেয়ে ভালো পরিকল্পনা রয়েছে।”
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, “ইরান সামরিকভাবে পুরোপুরি পরাজিত হয়েছে। তাদের কিছু সক্ষমতা হয়তো এখনও বাকি আছে, যা তারা এই সময়ের মধ্যে গড়ে তুলেছে। আমরা চাইলে একদিনের মধ্যেই তা ধ্বংস করতে পারবো।”
তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, তার পরিকল্পনার মূল বিষয় একটাই- “ইরান কখনওই পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে পারবে না।”
যদিও ইরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ সরানো নিয়ে অনিশ্চয়তা
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানের আলোচকরা যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে যে, ধ্বংস হওয়া পারমাণবিক স্থাপনাগুলো থেকে ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ বা তেজস্ক্রিয় অবশিষ্টাংশ সরানোর প্রযুক্তি তেহরানের নেই।
তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র এখনও জানে না কীভাবে ইরানে প্রবেশ করে সেই তেজস্ক্রিয় উপাদান সরানো সম্ভব হবে। বিষয়টি ভবিষ্যৎ আলোচনার অংশ হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এ সময়ও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ইরানকে কখনওই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে দেওয়া হবে না।
হরমুজ প্রণালী ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হিসেবে পরিচিত এই প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাস সরবরাহেও চাপ তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ পুনরায় চালু হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। সূত্র: আল-জাজিরা
Leave a Reply