প্রবাস ডেস্ক:
বর্তমানে কলকাতা থেকে তিনটি আন্তর্জাতিক বাস রুট চালু আছে। তিনটি রুটই বাংলাদেশ হয়ে। সেগুলো হলো— কলকাতা-ঢাকা, কলকাতা-খুলনা এবং কলকাতা-আগরতলা ভায়া বাংলাদেশ। এবার এর সঙ্গে যুক্ত হতে যাচ্ছে কলকাতা-চট্টগ্রাম রুট।
রোববার (৩০ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্থান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, ‘তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তি’ নিয়ে জটিলতা রয়েছে। আবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলার পানি বিক্রি করে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কারণ, বাংলাকে এড়িয়ে ‘ফারাক্কা-গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তি’ নবায়নে এগিয়েছে ভারত। এ নিয়ে নয়াদিল্লিতে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও শেখ হাসিনার দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় রাজ্য সরকারকে উপেক্ষা করা হয়েছে বলে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এই অবস্থায় দুই বাংলার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন হতে যাচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে উদ্যোগী হয়ে এই কাজে সাড়া দিয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এবার কলকাতা-চট্টগ্রামের মধ্যে যাত্রীবাহী বাস পরিষেবা চালু করা হচ্ছে। তাতে দুই বাংলার মধ্যে যোগাযোগে আরও উন্নতি ঘটবে। বাংলাদেশ সরকার এই নতুন রুটে আন্তর্জাতিক বাস পরিষেবা চালানোর আবেদন জানায়। তাই গত মে মাসে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই বিষয়টি নিয়ে লিখিতভাবে নবান্নের মতামত জানতে চায়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক আছে। আর তারই ভিত্তিতে দুই নেত্রীর দ্বিপাক্ষিক সমীকরণ অটুট। তাই চট্টগ্রাম-কলকাতা বাস রুট চালুর প্রস্তাবে সাড়া দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাই এই বাস পরিষেবা চালু হওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা।
নবান্ন সূত্রে খবর, সম্প্রতি রাজ্যের মুখ্যসচিব বিপি গোপালিকা পররাষ্ট্র সচিবকে চিঠি দিয়েছেন। সেখানে তিনি লেখেন, চট্টগ্রাম-কলকাতা নতুন বাস রুট চালুর প্রস্তাবকে স্বাগত জানানো হচ্ছে। আগে রাজ্যের পরিবহণ সচিব হিসেবেও কাজ করেছেন বিপি গোপালিকা। তাই দেশের পণ্য পরিবহণে নয়াদিগন্ত খুলতে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে বিশেষ করিডর তৈরির প্রস্তাব দিয়েছেন মুখ্যসচিব। সেটা এখন ভেবে দেখছেন পররাষ্ট্র সচিব। এখন নানা পণ্য উত্তর-পূর্ব ভারতের একাধিক রাজ্যে পৌঁছতে গেলে শিলিগুড়ি হয়ে যেতে হয়। ফলে দেড় হাজার কিলোমিটার পথ বাড়তি পাড়ি দিতে হয়। আর সুনির্দিষ্ট করিডর চালু হলে সেই দূরত্ব ৬০০ কিলোমিটার কমে যাবে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনারকে জানায়, কলকাতা যাওয়ার যাত্রীর সংখ্যা বেড়ে চলেছে। এটা লক্ষ্য করেই চট্টগ্রাম থেকে কলকাতা যাওয়ার বাস চালু করা হোক। তখনই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সক্রিয় হয়ে ওঠে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সবুজ সংকেতও মিলেছে বলে জানা গেছে। এখন শুধু আন্তর্জাতিক প্রটোকল মেনে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের অপেক্ষা।
Leave a Reply