প্রবাস ডেস্ক :
বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় গেলেও পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মঙ্গলবার (৫ মে) রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে তার দল তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির একদিন পর, বিদায়ী পশ্চিমবঙ্গ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কালীঘাটে একটি সাংবাদিক সম্মেলনে এই দাবি করেণ।
এদিকে তার এই অনড় অবস্থানের কারণে রাজ্যে এক অভূতপূর্ব সাংবিধানিক সঙ্কট তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাজভবন তথা রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস কী পদক্ষেপ নিতে পারেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে আইনি চুলচেরা বিশ্লেষণ।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী তৃণমূল কংগ্রেস নির্বাচনে হেরে গেছে। খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও নিজ আসনে পরাজিত হয়েছেন। তবে তৃণমূল সুপ্রিমো এই ফলাফল মানতে নারাজ। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, আমরা তো হারিনি। তাহলে আমি কেন ইস্তফা দেবো?
বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ আগামী সাত মে শেষ হতে চলেছে। নিয়ম অনুযায়ী, এই মেয়াদের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকার কোনো বৈধতা নেই।
দেশটির সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মুখ্যমন্ত্রী পদে নিয়োগ বা বরখাস্ত করার চূড়ান্ত অধিকার রাজ্যপালের হাতে ন্যস্ত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি স্বেচ্ছায় ইস্তফা না দেন, তবে রাজ্যপাল চাইলে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে ইস্তফা দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন। তাতেও কাজ না হলে স্রেফ রাজভবন থেকে একটি অধ্যাদেশ জারি করে বর্তমান সরকারকে বরখাস্ত করার ক্ষমতা তার রয়েছে।
রাজ্যপাল চাইলে সরাসরি বরখাস্ত না করে বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন ডাকতে পারেন এবং মুখ্যমন্ত্রীকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের নির্দেশ দিতে পারেন। নির্বাচনে পরাজিত হওয়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে তা প্রমাণ করা অসম্ভব হবে, ফলে তাকে পদ ছাড়তেই হবে।
পরিস্থিতি যদি চরম আকার ধারণ করে এবং মুখ্যমন্ত্রী ইস্তফা দিতে অস্বীকার করেন, তবে একে ‘সাংবিধানিক সঙ্কট’ হিসেবে গণ্য করা হবে। সেক্ষেত্রে রাজ্যপাল সংবিধানের ৩৫৬ ধারা অনুযায়ী রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সুপারিশ করতে পারেন। রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হলে রাজ্যের সমস্ত ক্ষমতা কেন্দ্রের হাতে চলে যাবে এবং মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্ষমতাচ্যুত হবেন।
ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি একটি অপরিহার্য সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। নতুন সরকার গঠনের পথ প্রশস্ত করতে এই ইস্তফা বাধ্যতামূলক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন, তবে রাজ্যপাল আইনি পথে হেঁটে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারেন বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
Leave a Reply