নিজস্ব প্রতিবেদক,
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে স্বাধীনতা দিতে চায় সরকার। তবে সেই স্বাধীনতার অপব্যবহার করে কোনো প্রতিষ্ঠান যেন পুনরায় ‘হলি আর্টিজান’-এর মতো জঙ্গি তৈরির কারখানায় পরিণত না হয়, সে বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।
মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা ও করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মতবিনিময় সভায় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিয়ন্ত্রণ করবো না, তাদের স্বাধীনতা দেবো। কিন্তু এমন স্বাধীনতা দেওয়া হবে না যে আরেকটা হলি আর্টিজান সৃষ্টি হয়। কিছুতেই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আর জঙ্গিদের কারখানা হতে দেবো না।
মতবিনিময় সভায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পক্ষ থেকে শিক্ষার উন্নয়নে একটি যুগোপযোগী নীতি এবং ভ্যাটমুক্ত শিক্ষাব্যবস্থার দাবি জানানো হয়েছে।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির সভাপতি ড. মোহাম্মদ সবুর খাঁন বলেন, বিগত সময়ে তৈরি করা সরকারি নীতিগুলো শিক্ষা ও এই খাতের বিকাশের প্রধান অন্তরায়। তিনি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য যুগোপযোগী নীতি প্রণয়ন, করমুক্ত সুবিধা প্রদান, পিএইচডি করানোর সুযোগ এবং দেশে-বিদেশে শাখা খোলার অনুমোদনের দাবি জানান।
বর্তমানে দেশে ১৭০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ১০৭টিই বেসরকারি। ১৯৯২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরেই দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিলো।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর মামুন আহমেদ জানান, আগামীতে সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই একটি নতুন ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট’ বা আইন প্রণয়ন করা হবে।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহাদী আমিন জানান, প্রথম শ্রেণি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত শিক্ষাব্যবস্থার রূপরেখা কেমন হবে, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে একটি নির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
Leave a Reply