জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হালিম প্রশ্ন তুলে বলেছেন, জিয়াউর রহমান যদি গণভোট দিয়ে নিজের ক্ষমতার বৈধতা নিতে পারেন, তবে জনগণের দাবির যথার্থতা যাচাই করতে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ও পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের জন্য গণভোটে আপত্তি কেন?
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলরুমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ আয়োজিত “জুলাই ঘোষণা, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রদান ও বাস্তবায়ন এবং পিআর পদ্ধতিতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে” আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এই প্রশ্ন তুলেন।
আব্দুল হালিম বলেন, ১৫ ফেব্রুয়ারির একতরফা নির্বাচন জাতি ভুলে যায়নি। কার হাতে, কার দ্বারা, কখন, কীভাবে গণতন্ত্র ধ্বংস হয়েছে জাতি জানে।
জামায়াতের আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, যারা দাবি করছে জনগণ পিআর পদ্ধতি বুঝে না, আসলে তাদেরই রাষ্ট্র পরিচালনার জ্ঞান নেই। পিআর পদ্ধতি তারাও ভালোভাবে বোঝেন। কিন্তু মেনে নিতে চান না। কারণ এ পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে অস্ত্রবাজি ও কেন্দ্র দখলের সুযোগ থাকবে না। ভয় আর হতাশায় তারা পিআর মেনে নিতে পারছে না।
ডা. তাহের বলেন, জুলাই আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিয়ে তার বাস্তবায়ন করতে হবে। দেশের ৭১ শতাংশ মানুষ পিআর পদ্ধতিতে ভোট দিতে চায়। একটি মাত্র দল ব্যতীত অন্য সব দলই এ দাবিকে সমর্থন করে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর এ দাবি উপেক্ষা করতে পারবে না।
তাহের বলেন, সংস্কার, বিচার ও নির্বাচনের ঘোষণা ছিল প্রধান উপদেষ্টার। অথচ তিনি সংস্কার ও বিচারের দৃশ্যমান রূপ না দিয়ে কেবল নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করেছেন। সেই রোডম্যাপ মেনে নির্বাচন হতে পারে, এতে জামায়াতের কোনো আপত্তি নেই। তবে অবশ্যই নির্বাচনের আগে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিয়ে বাস্তবায়ন করতে হবে এবং গণহত্যার বিচার দৃশ্যমান করতে হবে। তারপর পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন দিয়ে জনগণের সংসদ ও সরকার গঠন করতে হবে।
জামায়াতের এই নেতা সতর্ক করে বলেন, সংস্কার ও বিচার দৃশ্যমান হওয়ার আগে বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন হবে না। জনগণ জানে কীভাবে দাবি আদায় করতে হয়। পরিকল্পিত নির্বাচন হলে সাধারণ মানুষ ভোটকেন্দ্রে ব্যালট পৌঁছাতে দেবে না।
সরকারি আমলাদের উদ্দেশে ডা. তাহের বলেন, কিছু কর্মকর্তা ভেবেছেন নির্দিষ্ট একটি দলই আবার ক্ষমতায় বসবে। তাই তারা আগে থেকেই একপক্ষের হয়ে কাজ করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু জনগণ ঘুমিয়ে নেই। পাথর দিয়ে মানুষ হত্যা করে, চাঁদাবাজি-সন্ত্রাস করে কেউ ক্ষমতায় বসতে পারবে না।
সভাপতির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, জুলাই সনদের সাংবিধানিক ভিত্তি দিতে দায়িত্ব নির্বাচিত সরকারের হাতে ছেড়ে দেওয়া আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হবে। এতে নতুন করে বিশ্বাসঘাতকতা ঘটবে। তিনি বলেন, দেশের ৭১ শতাংশ জনগণ পিআর পদ্ধতি চায়। অথচ একটি দল বলে জনগণ পিআর বোঝে না। আসলে তাদের জনগণের সঙ্গে কোনো সম্পর্কই নেই।
সভায় আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, এডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার, ড. হেলাল উদ্দিন, মোহাম্মদ কামাল হোসেন, কবির আহমেদ, সৈয়দ জয়নুল আবেদীন প্রমুখ।
Leave a Reply