শেখ আবরার বিন আলম
কক্সবাজার পৌরসভার ২ নম্বার ওয়ার্ডের উত্তর নুনিয়ারছড়ার প্যারাবন সংলগ্ন সমুদ্রতট এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও হিরোইন উদ্ধার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র্যাব-১৫ কক্সবাজার।
অভিযানে উদ্ধার করা হলো, ৬ লাখ ৩০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ১০ কেজি হিরোইন সদৃশ্য মাদকদ্রব্য সহ দুই কুখ্যাত মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারী) বিকাল ৪টার দিকে কক্সবাজার র্যাব-১৫ এর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংএ এই তথ্য নিশ্চিত করেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল নেয়ামুল হালিম খান।
তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, কুখ্যাত মাদক কারবারি মোঃ ইসমাইল ও নজরুল ইসলাম তাদের সহযোগীদের নিয়ে একটি বড় মাদকের চালান উত্তর নুনিয়ার ছড়ার প্যারাবন সংলগ্ন সমুদ্রতটে লুকিয়ে রেখেছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকাল আনুমানিক ৬টা ৩০ মিনিটে র্যাব-১৫ এর একটি চৌকস আভিযানিক দল সেখানে অভিযান পরিচালনা করে। র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা পালানোর চেষ্টা করলে ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে সমুদ্রতটের বালির নিচে লুকিয়ে রাখা চারটি প্লাস্টিকের বস্তা উদ্ধার করা হয়। এসব বস্তা থেকে ৬ লাখ ৩০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ১০ কেজি হিরোইন সদৃশ্য মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও জানান, গ্রেফতারকৃতরা পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে সমুদ্রপথে মাদক চোরাচালানের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত। তারা মাছ ধরার ট্রলারের মাধ্যমে মাদকের বড় চালান এনে কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে আসছিল।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে সংঘবদ্ধ একটি চক্র অভিনব কৌশলে সমুদ্রপথে মাদক এনে প্রথমে উপকূলীয় এলাকায় মজুদ করে রাখে। পরবর্তীতে সেগুলো কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যার ফলে যুব সমাজ মারাত্মকভাবে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন-চকরিয়া উপজেলার চরণদ্বীপ এলাকার মৃত হোসেন আহমেদের ছেলে মোঃ ইসমাইল (৪৩) এবং উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালী এলাকার মৃত সাবের আহমেদের ছেলে নজরুল ইসলাম (৪২)।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
র্যাব জানায়, সরকার ঘোষিত মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে র্যাব শুরু থেকেই নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মাদক, অপহরণ, খুন, ডাকাতি ও ছিনতাইসহ সমাজে বিরাজমান বিভিন্ন অপরাধ দমনে র্যাব-১৫ নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করছে।
বিগত র্যাব-১৫ এর তথ্যমতে, ২০২৫ সালে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে মোট ৫৮ লাখ ১৭ হাজার ২৮৪ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ২০২৬ সালের শুরুতেই গত ৭ জানুয়ারি ও ১২ জানুয়ারি পৃথক অভিযানে আরও ২ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
Leave a Reply