নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি
নোয়াখালীতে জেলা কার্যালয়ের তালা ভেঙে ব্যানার টানানোর ঘটনায় আওয়ামী লীগের পাঁচ কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরে তাদের সন্ত্রাস দমন আইনের মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
এর আগে সকালে জেলা শহরের টাউনহল মোড়ে অবস্থিত আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় স্লোগান দিয়ে কার্যালয় দখলের ঘোষণা দেন তারা।
গ্রেফতাররা হলেন, বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আবদুর রহিম নাজিমের ছেলে মো. সফিকুল ইসলাম নাজিম (৪৩), সদরের কাদির হানিফ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম মাইজদী গ্রামের মৃত কামাল উদ্দিনের ছেলে মো. কাউছার হামিদ (৩৮), একই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ফতেহপুর গ্রামের মো. হেদায়েত উল্লাহর ছেলে মো. জিয়াউর রহমান রাজের (৪৮), চরমটুয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রামান্দি গ্রামের হানদু মিয়ার ছেলে মো. আবু সাঈদ (৫৫) ও নোয়াখালী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হরিনারায়ণপুর গ্রামের মৃত নরছন্দ পালের ছেলে বিদ্যুৎ রঞ্জন পাল (৪৯)।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ থাকা দলীয় কার্যালয়ের তালা ভেঙে সামনে ব্যানার টানানো হয়। পরে সেখানে জড়ো হয়ে স্লোগান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন নেতাকর্মীরা। প্রায় আধাঘণ্টা এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, তৃণমূল নোয়াখালীর নেতাকর্মীদের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এসময় ‘মুজিবের বাংলায় রাজাকারের ঠাঁই নাই’ ‘শেখ হাসিনা আসবে বাংলাদেশ হাসবে’ এ ধরনের অসংখ্য স্লোগান দেওয়া হয়।
পরে ফেসবুকে ওই কর্মসূচির বেশ কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। তবে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেন, অফিস দখলে দলীয়ভাবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এটা স্থানীয় কিছু আবেগি নেতাকর্মীর উদ্যোগ।
মো. জাহাঙ্গীর শেখ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মসূচির লাইভ দেখানো হয়। এতে লেখা হয়, ‘আগামী দিনে দেশের স্বাধীনতার পক্ষে সব শক্তি এক সঙ্গে কাজ করবো ইনশাল্লাহ, আমরা নোয়াখালী জেলা তৃণমূল আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার পক্ষের দলের সঙ্গে কাজ করবো।’
ভিডিও শেয়ার করে হাসান মাসুদ জয় নামে একজন লিখেন, ‘কাদির হানিফ ইউনিয়ন আওয়ামী তৃণমূল নেতাকর্মীর দ্বারা নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় খোলা হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের পোস্ট পদবির বেলায় তাদের দেওয়া হয় না।’
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জাগো নিউজকে বলেন, এ ঘটনার ভিডিও দেখে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগের পাঁচ কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। তাদেরকে পুরোনো সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় আদালতে পাঠানো হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আন্দোলনের পর থেকে কার্যালয়টি তালাবদ্ধ ছিল। আন্দোলন চলাকালে বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা কার্যালয়টিতে অগ্নিসংযোগ করলে ভবনটি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে ওই কার্যালয়ে সব আসবাবপত্র চুরির ঘটনা ঘটে।
Leave a Reply