গাজীপুর জেলা প্রতিনিধিঃ
গাজীপুরের কালীগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। নিহত হাবিবুর রহমান ওরফে হবি সিকদার (৬৫) পৌরসভার দেওপাড়া এলাকার মৃত তালেব আলীর ছেলে। তিনি খলাপাড়া শ্বশুর বাড়িতে থাকতেন। ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন সজীব মোল্লা ও জেসমিন।
বৃহস্পতিবার (৫ই মার্চ) কালীগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরসাদী ইউনিয়নের মধ্য খলাপাড়া গ্রামে মেশিনের ফর্মা ( সঁাচ) বানানোকে কেন্দ্র করে দু পক্ষের সংঘর্ষে নিহতের ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, কালীগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরসাদী ইউনিয়নের মধ্য খলাপাড়া গ্রামস্থ, ভাই ভাই ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ ও সিকদার ওয়ার্কশপের মালিকের মধ্যে মেশিনের ফর্মা বানানোকে কেন্দ্র করে তর্ক বিতর্ক শুরু হয়। সে সময় অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ভাই ভাই ওয়ার্কশপের মালিক খলাপাড়া গ্রামের মো. নজরুল মোল্লার ছেলে সজীব মোল্লা (২৮) কে, এলোপাতাড়ি মারপিট শুরু করে। তখন সজীবের ডাক চিৎকারে ঘটনাস্থলের পাশে থাকা তার ফুফা আগাইয়া আসলে বিবাদীরা তাকেও মারধর করে গুরুতর জখম করে। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে আসে। হাসপাতালের জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক শহীদুল ইসলাম পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে হবি সিকদারকে মৃত ঘোষণা করেন। হবি সিকদারকে ৫মার্চ রাত ৮টা ৪৫ মিনিটের দিকে মৃত অবস্হায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। গুরুতর আহত সজীবকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে । ফজলুল হকের মেয়ে জেসমিনকে প্রাথমিক চিকি ৎসা দেওয়া হয়েছে। উক্ত ঘটনার সংবাদ পেয়ে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এ সম্পর্কে কালীগঞ্জ থানার এস.আই (নিঃ) মো. রিয়াদুল ইসলাম বলেন, দু পক্ষের সংঘর্ষে মৃতের সংবাদ পাইয়া মৃতের প্রাথমিক সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করা হয়েছে। এ ঘটনায় ২জনকে আটক করে শুক্রবার সকালে গাজীপুর কোর্টে পাঠানো হয়েছে।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: জাকির হোসেন বলেন কালীগঞ্জ থানার বাহাদুরশাদী ইউনিয়নের খলাপাড়া এবিএল গেইটে তুচ্ছ ঘটনায় দুই পক্ষের মারামারি কে কেন্দ্র করে হবি সিকদার (৬৫) নামে ব্যক্তির কালীগঞ্জ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পূর্বেই মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের লাশ গাজীপুর শহীদ তাজ উদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
Leave a Reply