মো.হোছাইন লামা প্রতিনিধি :
পার্বত্য জেলার বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার মায়ানমার সীমান্তঘেঁষা দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল পাহাড় ভাঙা পাড়ায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহায়তায় সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি। প্রত্যন্ত ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এ এলাকায় ১১থেকে ১৩ মে ২০২৬ পর্যন্ত তিনদিনব্যাপী এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়।জানা যায়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আলীকদম জোনের সার্বিক তত্ত্বাবধান, নিরাপত্তা সহায়তা ও সমন্বয়ে পোয়ামুহুরী আর্মি ক্যাম্পের দায়িত্বাধীন এলাকায় টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এতে আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ব্র্যাক-এর স্বাস্থ্যকর্মীরা যৌথভাবে অংশগ্রহণ করেন। পুরো কার্যক্রমে সেনাবাহিনী মাঠ পর্যায়ে নিরাপত্তা, যাতায়াত সমন্বয় এবং সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে।
দুর্গম পাহাড়ি পথ, সীমিত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং প্রতিকূল ভৌগোলিক অবস্থার কারণে যেখানে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া কঠিন, সেখানে সেনাসদস্যরা স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপদে বিভিন্ন পাড়ায় পৌঁছে দেন। তাদের এই সমন্বিত উদ্যোগে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সুষ্ঠুভাবে টিকাদান কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।
এই কর্মসূচির আওতায় পোয়ামুহুরী আর্মি ক্যাম্পের অধীন সাতটি সীমান্তবর্তী পাড়ায় মোট ২৭৭ জন শিশুকে হাম-রুবেলা টিকা প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী ১০২ জন এবং ৬ থেকে ১৫ বছর বয়সী ১৭৫ জন শিশু অন্তর্ভুক্ত ছিল।
টিকাদান কার্যক্রম শুরুর আগে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়। হাম ও রুবেলা রোগের ঝুঁকি, প্রতিরোধের উপায় এবং টিকার গুরুত্ব সম্পর্কে অভিভাবকদের অবহিত করা হলে তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে শিশুদের টিকাদানে অংশগ্রহণ করেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এ উদ্যোগের মাধ্যমে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের শিশুদের সংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে এ ধরনের মানবিক কর্মকাণ্ড স্থানীয় জনগণের সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পারস্পরিক আস্থা আরও সুদৃঢ় করেছে।
এ বিষয়ে আলীকদম সেনা জোনের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান আশিক বলেন, “দুর্গম অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
এ উদ্যোগের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, স্বাস্থ্য বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তারা।
Leave a Reply