কুমিল্লাপ্রতিনিধি,
নির্বাচনে ফেল করানোর জন্য প্রচুর টাকা ডিল হয়েছে বলে জানতে পেরেছেন বলে দাবি করেছেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) দুইবারের সাবেক মেয়র মো. মনিরুল হক সাক্কু। তিনি বলেন, ২০২২ সালের ১৫ জুন আপনারা সাংবাদিকগণ দেখেছেন কীভাবে ফল পাল্টানো হয়েছে। নির্বাচনে ১০৫টি কেন্দ্রের মধ্যে নির্বাচন কমিশন ১০১টি কেন্দ্রে ফল ঘোষণা করে আড়াই ঘণ্টা ফলাফল ঘোষণা করতে বিলম্ব করেছেন।
শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মেইলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাক্কু এসব কথা বলেন।
কুসিকের সাবেক এই মেয়র বলেন, আমি ২০০৫ সালে কুমিল্লা পৌরসভার চেয়ারম্যান ছিলাম। ২০০৯ সালে পদবী চেয়ারম্যান না থাকায় আমি ২০১০ ও ২০১১ সালে দুই বছর অন্তর্ভুক্তি চেয়ারম্যান ছিলাম। ২০১২ সালের ৬ জানুয়ারি কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থীকে পরাজিত করে প্রথম পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হই। তারপর ২০১৭ সালে দ্বিতীয়বারের মতো কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হয়েছি। আমি বিরোধী রাজনীতির ঘরনার হয়েও পরপর দুইবার আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আমাকে নগরবাসী মেয়র নির্বাচিত করেছেন।
ফলাফল পাল্টানোর অভিযোগ করে তিনি বলে, ২০২২ সালের ১৫ জুন আপনারা সাংবাদিকগণ দেখেছেন কীভাবে ফল পাল্টানো হয়েছে। নির্বাচনে ১০৫টি কেন্দ্রের মধ্যে নির্বাচন কমিশন ১০১টি কেন্দ্রে ফল ঘোষণা করে আড়াই ঘণ্টা ফলাফল ঘোষণা করতে বিলম্ব করেছেন। এসকল কেন্দ্রগুলো হলো— ২০নং ওয়ার্ডের দুটি কেন্দ্র, ভিক্টোরিয়া কলেজের একটি কেন্দ্র এবং ২৪নং ওয়ার্ডের সালমান কেন্দ্র। আমার ভোটের ব্যবধান ছিল কম। আমার জানা মতে আমি ৯৮৭ ভোটে পাস করেছি। আমার কাছে কাগজ আছে কিন্তু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কথা বলেন ৪টা কেন্দ্রে আমাকে ৩৪২ ভোটে পরাজিত দেখিয়েছে। আমার ভোটের ব্যবধান যদি আরও এক বা দেড় হাজার ভোট বেশি হত তাহলে তারা আমাকে ফেল করাতে পারে না। আমি কাউকে ভয় করি না।
মনিরুল হক সাক্কু বলেন, আমি সাক্কু কোনোদিনই কামনা করি না কেউ মারা যাক। নির্বাচনের দেড় বছরের মধ্যে রিফাত ভাই ইন্তেকাল করেছেন। আমি আল্লাহকে খুব মানি। চাই না কেউ মারা যাক। সিটি মেয়রের পদটি এখন শূন্য হওয়ার পর আর ৩ বছর আছে। আমি অনেক কষ্ট করে সিটি করপোরেশনের জন্য এক হাজার ১৫০০ কোটি টাকা এনেছি। আমার অসমাপ্ত কাজগুলো সুন্দর ভাবে সমাপ্ত করার জন্য মেয়র পদে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। জনগণ তো তাকেই মেয়র বানাবে যার অফিসে যেতে কোনো নাগরিকের অনুমতি লাগবে না। ইনশাআল্লাহ আমি যদি নির্বাচনে কামিয়াব হতে পারি, গত ১০ বছরে যা হয়নি ৩ বছরে এর চেয়ে বেশি উন্নয়ন করব।
পিতা-মাতার কবর জেয়ারত করে ‘টেবিল ঘড়ি’ প্রতীকের প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু নগরীর দারোগা বাড়ী মাজার শরীফ, কালিয়াজুরী মাজার শরীফ এবং টমছমব্রিজ এলাকায় প্রচারণা শুরু করেন। তারপর তিনি নগরীর রাজগঞ্জ, চকবাজার, কান্দিরপাড়, মনোহরপুর, বাদুরতলা, ছাতিপট্টি ঝাউতলা এবং পুলিশ লাইনসহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন।
উল্লেখ্য, প্রায় ১০ লাখ বাসিন্দার এই মহানগরীতে ভোটার ২ লাখ ২৯ হাজার ৯২০। তাদের মধ্যে নারী ১ লাখ ১৭ হাজার ৯২, পুরুষ ১ লাখ ১২ হাজার ৮২৬, আর হিজড়া ভোটার ২ জন।
কুমিল্লা আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মোট ১০৫টি ভোটকেন্দ্রের ৬৪০টি কক্ষে ভোট নেওয়া হবে। নির্বাচন ৯ মার্চ সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ইভিএমে হবে।মোট ২৭টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এই সিটি করপোরেশন।
Leave a Reply