1. nskibria2012@gmail.com : যুগ যুগান্তর : যুগ যুগান্তর kibria
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩১ অপরাহ্ন

নীলফামারীতে আদালতের নিষেধাজ্ঞার অমান্য করে বাড়িতে আগুন

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৩ বার পঠিত

মাইদুল ইসলাম

নীলফামারীতে বিরোধপূর্ণ জমিতে প্রতিপক্ষের প্রবেশে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় বাড়ির মালিকসহ চারজন আহত হয়েছেন বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে। আগুনে তিনটি ঘর পুড়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর নীলফামারী সদর উপজেলার পশ্চিম কুঠিয়ার মোড় (সিপাইপাড়া) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মো. বাহাদুর রহমান বাদী হয়ে নীলফামারী সদর থানায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করে এজাহার দিয়েছেন।
বাদীর দাবি, জমি নিয়ে প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে তিনি নীলফামারীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এমআর ১৮১/২০২৬ নম্বর মামলা করেন। মামলার আদেশে প্রতিপক্ষকে নালিশি জমিতে প্রবেশে বারিত করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের আদেশনামায় আরও বলা হয়েছে, প্রতিপক্ষ জমি নিয়ে দেওয়ানি আদালতে বাটোয়ারা মামলা করলেও সেখানে কোনো স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়নি। সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর দখলসংক্রান্ত প্রতিবেদনসহ সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা শেষে আদালত প্রতিপক্ষকে নালিশি জমিতে প্রবেশে নিষেধ করেন।
বাদীর এজাহার অনুযায়ী, আদালতের ওই আদেশের পর ২৬ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টার দিকে তিনি রাজমিস্ত্রি দিয়ে বাড়ির নির্মাণকাজ শুরু করেন। বেলা আনুমানিক ২টা ৪০ মিনিটে একদল লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে গিয়ে নির্মাণকাজে বাধা দেয়।
এ সময় তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করেন বাহাদুর রহমান। পরে তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয়। তাঁর ছেলে, স্ত্রী, মা ও ভাতিজাকেও মারধরের অভিযোগ রয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, হামলাকারীরা বাড়ির নির্মাণাধীন অংশ ভাঙচুর করে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি করে। পরে কয়েকজন ঘরে ঢুকে স্বর্ণালংকার ও বাড়ি নির্মাণের জন্য রাখা ৫ লাখ ৫ হাজার টাকা নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেছেন বাদী।
এরপর একটি ঘরে পেট্রল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। মুহূর্তে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং বাড়ির তিনটি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে দাবি করা হয়েছে। স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। পরে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর আহতদের নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা ও আহতদের নিয়ে ব্যস্ত থাকায় থানায় এজাহার দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে বাদী উল্লেখ করেছেন।
আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—বিরোধপূর্ণ জমিতে প্রতিপক্ষের প্রবেশে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও সেখানে সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা কীভাবে ঘটল? আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ঘটনাস্থলে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশের দায়িত্ব থাকলেও ঘটনার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তসাপেক্ষ। বাদীর অভিযোগের বিপরীতে অভিযুক্তদের বক্তব্য এবং পুলিশের তদন্তের ফলাফল পাওয়া গেলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরও পরিষ্কার হবে।
স্থানীয়দের দাবি, জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে যাতে আরও বড় ধরনের সংঘাত না ঘটে, সে জন্য দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে নীলফামারী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..