পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি:
পঞ্চগড় সদর উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নের ধনীপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিক প্রায় দুই মাস ধরে তালাবদ্ধ থাকার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ক্লিনিকটির দায়িত্বে থাকা কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) মোঃ সারোয়ারের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়মের অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠাকুরগাঁও থেকে বদলি হয়ে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নিয়মিত ক্লিনিকে উপস্থিত থাকতেন না সিএইচসিপি সারোয়ার। কখনো বেলা ১১টার পর ক্লিনিকে এলেও এক থেকে দেড় ঘণ্টার মধ্যে চলে যেতেন। ফলে চিকিৎসাসেবা নিতে এসে অনেক রোগীকে তালাবদ্ধ ক্লিনিক দেখে ফিরে যেতে হতো। সর্বশেষ প্রায় দুই মাস ধরে ক্লিনিকটি সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে বলে দাবি তাঁদের।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল ১১টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে ক্লিনিকটি তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখা যায়। স্থানীয়দের ভাষ্য, সিএইচসিপি ক্লিনিকে না আসায় দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য সহকারীকে ক্লিনিকের সামনের সড়কে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে সিএইচসিপি মোঃ সারোয়ারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি অফিসেই রয়েছেন এবং পঞ্চগড় জেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাজিরা দিয়েছেন।
সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আফরোজা রিনা জানান, সিএইচসিপির অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলায় তিনি অতিষ্ঠ হয়ে তাঁর হাজিরা খাতা নিজ দপ্তরে রেখেছেন। সেখান থেকে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে তাঁকে ক্লিনিকে যাওয়ার কথা। কিন্তু একাধিকবার সরেজমিনে পরিদর্শন করেও তাঁকে ক্লিনিকে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় জেলা সিভিল সার্জনের কাছে একাধিকবার চিঠি ও শোকজ পাঠানো হয়েছে এবং বিভাগীয় তদন্তের আবেদন করা হয়েছে।
জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ মিজানুর রহমান এ বিষয়ে জানান, ধনীপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপির বিষয়ে তিনি বিস্তারিত অবগত হয়েছেন এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা সিএইচসিপির বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগও করেছেন। তবে এ অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সরকারের তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নির্মিত কমিউনিটি ক্লিনিকটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। দ্রুত তদন্ত করে ক্লিনিকটি নিয়মিত চালু এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।