রবিউল আলম গাজীপুর প্রতিনিধি
গেল, ১লা সেপ্টেম্বর দুপুর পৌনে দুইটায় সময় বাসন থানাধীন বারবৈকা মধ্যপাড়া সাকিনস্থ জনৈক লুৎফর এর বাড়ির সামনে জাকিরের বাগানের ভিতর গলায় গামছা পেঁচানো উপর করা করা অবস্থায় অচেনা একজন পুরুষের মরদেহ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ওই মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়না তদন্তের জন্য গাজীপুরে শহীদ তাজ উদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এঘটনার প্রেক্ষিতে বাসন থানা পুলিশ বাদী হয়ে গেল ২রা সেপ্টেম্বর একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। ঘটনার পরেরদিন ভিক্টিমের স্ত্রী ফাতেমা আক্তার (২৬) জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তাঁর স্বামীর লাশ সনাক্ত করেন। ভিকটিমের নাম ও ঠিকানা মোঃ সেলিম সরদার (৩৩), পিতা মোঃ শাহ জামাল সরদার, গ্রামঃ পশ্চিম উদয়নগর,ডাকঘর, চিলমারী, দৌলতপুর, কুষ্টিয়া। বর্তমানে বেগমপুর(ফুয়াংগেট), জয়দেবপুর,গাজীপুর। ফাতেমা আক্তার জানায়, তাঁর স্বামী সেলিম গেল ৩১ আগস্ট নিজের মালিকানাধীন পিক আপ নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। তার সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। মামলা রুজু এবং ভিক্টিমের পরিচয় জানার পরে গেল ৪-সেপ্টেম্বর তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় বাসন থানা ও সদর থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে গাজীপুর ও হবিগঞ্জে জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযানে চালিয়ে হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল থানার দৌলতপুর গ্রামের মোঃ বাসেদ এর ছেলে মোঃ মারুফ হোসেন (৩০), ময়মনসিংহের ধোবাউড়া থানার সানন্দাখালী হারেস আলীর ছেলে এনামুল (২২) থানা ও জেলা শেরপুরের টিকারচর গ্রামের মৃত মোতালেবের ছেলে মোঃ আমিনুল ইসলাম (২৪) ও টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর থানার মোহাম্মদ রফিজ মণ্ডলের ছেলে মোঃ শামীম (২৪)কে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় ভালোবাসা নিয়ে থেকে নানা অপরাধ করে বেড়াতো। তবে প্রাথমিকভাবে ধৃত আসামীরা হত্যাকান্ডসহ পিক আপ ছিনতাইয়ে জড়িত থাকার ঘটনা স্বীকার করেছে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ৩১ আগস্ট রাত আনুমানিক ১১ ঘটিকার সময় ভোগরা মোড় থেকে শামীম ও মারুফ সেলিমের পিকআপসহ ১৩০০ টাকায় মাওনা যাওয়ার জন্য ভাড়া করে। বাসন থানাধীন শাহ আলম বাড়ী থেকে মিক্সার মেশিন নিবে বলে কৌশলে সেলিমকে আসামী মারুফ ও বোরহান সেখানে নিয়ে যায়। এর পর ঘটনাস্থলে আগে থেকেই ওতপেতে থাকা আমিনুল, এনামুল ও শামীম এর সহযোগীতায় সেলিমকে গলায় গামছা পেচিয়ে হত্যা করে। হত্যা শেষে লাশের হাত-পা বেধে ঘটনাস্থলে ফেলে যায় এবং মারুফ একা গাড়ি চালিয়ে রাজেন্দ্রপুর কাপাসিয়া হয়ে আশুগঞ্জে গিয়ে গাড়ীর জিপিএস খুলে ফেলে সহযোগী আহাদের কাছে গাড়ি হস্তান্তর করে। গত ৪ সেপ্টেম্বর আশুগঞ্জ থেকে পুলিশ গাড়ীর জিপিএস এবং হবিগঞ্জের বিভিন্ন স্থান থেকে আসামী আহাদের দেখানো মতে গাজীপুর সদর থানার ছিনতাই হওয়া পিকআপ সহ মোট ৭টি পিকআপ উদ্ধার করা হয়েছে।
Leave a Reply