জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক :
ডা. মুরাদ হাসান। ছবি: সংগৃহীত
যেসব কারণে সেদেশে ঢুকতে দেয়নি সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানকে, তার মধ্যে অন্যতম কারণ ছিল ডা. মুরাদের কাছে করোনার ডাবল ডোজ টিকা গ্রহণের সনদ না থাকা। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা দেশটির বিমানবন্দরে জেরার পর মুরাদকে ফিরতি বিমানে দুবাই পুশ ব্যাক করে কানাডা ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ।
দুবাইতেও কয়েক ঘণ্টা অবস্থান করার পর সেদেশে ঢোকার সঠিক কারণ এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় আবার তাকে ফেরত আসতে হয় বাংলাদেশে। যদিও নির্ধারিত সকালের ফ্লাইটে না এসে রোববার (১২ ডিসেম্বর) বিকেল ৫টা ৭ মিনিটে এমিরেটসের ইকে ৫৮৬ বিমানে এসে নামেন হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। অনেক চেষ্টার পরও গণমাধ্যমের চোখ এড়াতে পারেননি আলোচিত ও বিতর্কিত এই রাজনীতিবিদ।
সাম্প্রতিক সময়ের বহুল আলোচিত এবং সমালোচিত, সরকারি দলের সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী করোনার সনদ ছাড়া কী করে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পার হলেন, আবার ফিরেও এলেন, সেটাই বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, ভ্যাকসিন সার্টিফিকেট ও কোভিড প্রোটোকল না মেনে মুরাদ কীভাবে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে কানাডায় গেলেন, আবার ফিরেও এলেন?
এ বিষয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এ এইচ এম তৌহিদ-উল আহসানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিমানবন্দর দিয়ে যেসব যাত্রী বাইরের দেশে যান, সেসব যাত্রীদের স্বাস্থ্য সনদ চেক করার পাশাপাশি ভ্যাকসিনেশন সার্টিফিকেট চেক করার দায়িত্ব স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের। সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষের এখতিয়ারে নয়।’
নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘আমরা ইমিগ্রেশন করে থাকি, যাত্রীদের সেবা দেই। যার যার কাজ, সে সে বিভাগ করে থাকে। প্রটোকল মতো ইমিগ্রেশন শাখা ইমিগ্রেশন করে আর স্বাস্থ্যের কাজ স্বাস্থ্য করে থাকে। তাই মুরাদের সনদ সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর যথাযথ কর্তৃপক্ষ ভালো দিতে পারবেন।’
ডা. মুরাদ করোনা সনদ ছাড়া দেশের বাইরে গেলেন আবার ফিরে এলেন, এ বিষয়টি আপনাদের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ডা. মুরাদ যে করোনা সনদ ছাড়াই বিমানবন্দর ছেড়েছেন, আমি এই বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমেই জানতে পারলাম।’
অন্যদিকে, মুরাদ হাসান করোনা সনদ ছাড়াই বিমানবন্দর পার হয়ে দেশ ছাড়া এবং ফিরে আসা বিষয়ে বেসামরিক বিমান প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী বলেন, বিমানবন্দরে অনেকগুলো বিভাগ কাজ করে। ইমিগ্রেশনের কাজ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। স্বাস্থ্যের ব্যাপারটি দেখে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। করোনার আগেও কিন্তু সব যাত্রীকে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত একটি ফরম পূরণ করতে হতো। এসব কিছুর দায়িত্বে রয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। মুরাদ বা যেকোনো যাত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক কোনো ব্যাপারে আমাদের পক্ষ থেকে নাক গলানো কোনোভাবেই ঠিক হবে না।
বেসামরিক বিমান প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদের করোনা সনদ বিষয়ক আপনাদের সব ধরনের প্রশ্নের সঠিক উত্তর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত যারা আছেন, তারাই দিতে পারবেন।
এ ব্যাপারে জানতে একাধিকবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ও লাইন ডিরেক্টর ডা. রোবেদ আমিন এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মাঈদুল ইসলাম প্রধানের মুঠোফোনে কল করলেও তারা ফোনকল রিসিভ করেননি।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি একটি ভার্চুয়াল টকশোতে খালেদা জিয়ার জ্যৈষ্ঠ পুত্র তারেক রহমানের কন্যাকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন ডা. মুরাদ হাসান। এর পাশাপাশি অভিনেত্রী মাহিয়া মাহির সঙ্গে একটি পুরোনো অডিও ফাঁসের ঘটনায় নানা সমালোচনার মুখে পড়েন ডা. মুরাদ।
উল্লেখিত দুটি বিষয়ে স্যোসাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সর্বস্তরের মানুষ ক্ষোভ এবং নিন্দা জানায়। সরকারি দলও বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে। ফলশ্রুতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন ডা. মুরাদ হাসান। একইসঙ্গে জামালপুর আওয়ামী লীগের সব ধরনের পদ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
ডা. মুরাদ হাসান জামালপুর-৪ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ের পর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে প্রথমে তাকে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ২০১৯ সালের মে মাসে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন তিনি।
Leave a Reply