1. nskibria2012@gmail.com : ns kibria : ns kibria
শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ০৬:১৫ অপরাহ্ন

টাঙ্গাইলে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষিকাকে থাপ্পড়-ঘুষি, শিক্ষার্থীকে ‘টিসি’

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬
  • ১৯ বার পঠিত
২৩

তানিয়া ইসলাম ঝিনুক

টাঙ্গাইলে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষিকাকে থাপ্পড়-ঘুষি, শিক্ষার্থীকে ‘টিসি’
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় শ্রেণিকক্ষে শাসন করায় এক শিক্ষিকাকে থাপ্পড় ও ঘুষি মারার অভিযোগে নবম শ্রেণির এক ছাত্রকে বিদ্যালয় থেকে টিসি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সেইসঙ্গে ওই বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সেই শিক্ষার্থীর বাবার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

 

তবে সালিশের সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট নন ভুক্তভোগী শিক্ষিকা। তিনি বিদ্যালয়ে আর ফিরতে চান না বলে জানিয়েছেন।

ঘটনার দুই দিন পর বুধবার স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষক প্রতিনিধি ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে এক সালিশে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানান ডা. শওকত আলী ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেন।

সালিশের সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী শিক্ষিকা বলেন, যেখানে শিক্ষককে সম্মান করা হয় না, সেখানে আর ফিরে যেতে চাই না। এই পেশাতেও আর থাকতে ইচ্ছা করছে না। সরকার যদি নিজ জেলায় বদলির ব্যবস্থা করে, তাহলে বিষয়টি ভেবে দেখব।

ভুক্তভোগী নারী ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক। এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগ পেয়ে প্রায় ছয় মাস আগে ওই বিদ্যালয়টিতে যোগ দেন তিনি।

 

প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেন বলেন, সোমবার দুপুরে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে ওই শিক্ষিকার কথা-কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীকে শাসন করতে একটি থাপ্পড় দেন তিনি। এরপর ওই শিক্ষার্থী ওই শিক্ষিকাকে থাপ্পড় ও ঘুষি মারেন।

ঘটনার সময় শ্রেণিকক্ষে অন্য শিক্ষার্থী ছাড়াও তিনজন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।

সেখানে উপস্থিত শিক্ষক আনিছুর রহমান বলেন, ঘটনার সাক্ষী আমি। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর ওই ছাত্রকে আমি শাসন করেছি।

তবে শিক্ষার্থীর দাবি, ইংরেজি শিক্ষিকা তাকে প্রাইভেট পড়ার কথা বলতেন। বিষয়টি তিনি বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ এক শিক্ষিকাকে জানিয়েছিলেন। ঘটনার দিন শ্রেণিকক্ষে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্নোত্তরের একপর্যায়ে কথা-কাটাকাটি হয়। ওই শিক্ষিকা প্রথমে তাকে থাপ্পড় মারেন। পরে আবার থাপ্পড় মারার সময় নিজেকে সরিয়ে নিতে গিয়ে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।

ঘটনার দুই দিন পর সালিশ বৈঠকের প্রধান ধলাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এজহারুল ইসলাম মিঠু ভূঁইয়া বলেন, শিক্ষিকা ও এলাকার কিছু মানুষ এ সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট নন।

প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেন বলেন, সালিশে ওই শিক্ষার্থীর বাবা বিদ্যালয়ের দপ্তরির বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকর করা হবে।

ঘাটাইল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার তিন দিন পার হলেও এ বিষয়ে তাকে কিছু জানানো হয়নি। তিনি লোকমুখে বিষয়টি শুনেছেন।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান বলেন, বিদ্যালয়ের কোনও শিক্ষক আমাকে বিষয়টি জানাননি। তবে আমিও লোকমুখে ঘটনাটি শুনেছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..