ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
৭৫৮.৬০ বর্গমাইল আয়তনের ঝিনাইদহ জেলার মোট জনসংখ্যা ১৭ লক্ষ ৭১ হাজার ৩০৪ জন। ঝিনাইদহ জেলার পূর্বদিকে মাগুরা জেলা,দক্ষিণে যশোর জেলা
উত্তরে কুষ্টিয়া জেলা,পশ্চিমে পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা,মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা জেলা অবস্থিত। অবস্হানগত কারনে দক্ষিণ পশ্চিমের সড়ক যোগাযোগ
ব্যবস্হা ঝিনাইদহ জেলার উপর দিয়ে। সেকারনে ঝিনাইদহ জেলাকে দক্ষিণ পশ্চিমের প্রবেশদ্বার বললেও
ভূল হয়না।
ইতিহাস ঐতিহ্যর ধারক ও বাহক এই জেলাতে রয়েছে অনেক দর্শনীয় স্হান ও পর্যচন কেন্দ্র। শিক্ষা, দীক্ষা এবং সাংস্কৃতিতে স্বাধীনতার পরবতী সময়ে এই জেলাতে অনেক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। কৃষিতে ঝিনাইদহের উন্নয়ন সারাদেশে ইতিমধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বলা হয়ে থাকে কলা আর পান ঝিনাইদহের প্রাণ। তাছাড়া ফুল চাষ করেও বিগত কয়েক বছরে কৃষি খাতে যথেষ্ট অবদান রেখেছে ঝিনাইদহের ফুল চাষীরা। বর্তমানে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের বলিষ্ঠ হস্তক্ষেপে মাদক, সন্ত্রাস ,দূর্নীতি ও আইন শৃংখলা পরিস্হিতির যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে।
কিন্তু এতদস্বত্তেও কিছু অসাধু লোকজন অবৈধভাবে মাটির ব্যবসা ও বালু উত্তোলনের ফলে ঐতিহ্যবাহী ঝিনাইদহ জেলার সার্বিক অবস্হার উপর বিরুপ প্রভাব ফেলছে। ঝিনাইদহ জেলার কয়েকটি উপজেলায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় যে কৃষিজমি নষ্ট করে ভেপু দিয়ে মাটি কেটে রমরমা মাটির ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। তাতে করে একদিকে যেমন কৃষি জমি ধ্বংস হচ্ছে অন্যদিকে রাস্তা দিয়ে ভারি
মাটি বোঝাই ট্রাকটার চলাচলের কারনে সরকারি পাকা
ও কাচা রাস্তা গুলো ধূলোয় মিশে যাচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে
রাস্তার মাঝখানে বড় বড় গর্ত। যা আগামী বর্ষা মৌসুমে । রাস্তাগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে বলে সবার ধারনা।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কালিচরনপুর, সাগান্না, পোড়াহাটি,মধুহাটি,সাধুহাটি ,পাগলাকানাই,এবং হরিনাকু্ন্ডু উপজেলার চাঁদপুর, কাপাশাটিয়া ইউনিয়নের অনেক জায়গায় আবাদী জমি নষ্ট করে মাটি টানার ফলে কোথাও কোথাও ২/৫ কিলোমিটার সরকারি রাস্তা ধূলোয় মিশে গিয়েছে। ভূক্তভোগী এলাকাবাসীর মতে হয়ত তাদের ব্যবসা হচ্ছে ২/৩ লক্ষ টাকার কিন্তু তারা সরকারি রাস্তা নষ্ট করছে ২ কোটি টাকার যা আমরা ৫/৬ বছর সাধনা করে এই রাস্তা পেয়েছি তারা এই ক্ষতি পূরন করবে কিভাবে।
কখনও কখনও গভীর রাত পর্যন্ত চলছে মাটিকাটার কাজ। যার ফলে ভেপু এবং ট্রাক্টরের শব্দে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার যেমন ব্যাঘাত ঘটছে তেমনি নির্ঘুম রাত কাটছে ঐ এলাকার জনগনের। দিনের বেলায় স্কুল, কলেজ চলাকালীন সময়েও রাস্তা দিয়ে প্রচন্ড গতিতে চলছে মাটি বোঝাই ট্রাক্টার। প্রচন্ড শব্দ এবং ধূলাবালির কারনে ট্রাক্টটরের পাশ দিয়ে চলা
স্কুল কলেজের ছেলেমেয়েদের ও পথচারীদের নাকমুখ ধূলাবালিতে বন্ধ হবার উপক্রম হয় প্রায়ই। তাছাড়া শব্দ
দূষন ও বায়ুদূষনের ফলে কোমলমতি শিশুদের, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্ট রোগ বেড়ে যাচ্ছে দিন দিন।
সংকীর্ণ গ্রামিন রাস্তা দিয়ে বড় বড় ট্রাক্টর যাতায়াতের ফলে প্রায়ই ঘটছে দূর্ঘটনা,ইতিমধ্যে ট্রাক্টরের নিচে চাপা পড়ে অনেকের মৃত্যু ও ঘটেছে। অসাধু এসব মাটি ব্যবসার সাথে বড় বড় সিন্ডিকেট জড়িত আছে বলে সচেতন নাগরিকদের ধারনা।গ্রামাঞ্চলের সাধারন মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায় এর সাথে স্হানীয় জনপ্রতিনিধিরা জড়িত। তাদের ভাষায় ভোট দিয়ে প্রতিনিধি তৈরি করলাম এলাকার রাস্তাঘাট ও আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য আর তারাই অবৈধ মাটিকাটা ব্যবসা করে সরকারি রাস্তা ধ্বংস করছে, আমরা তাদের ভয়ে কিছু বলতে পারিনা। কখনও কখনও একই এলাকায় দুইটা তিনটা সিন্ডিকেট থাকায় অবৈধ মাটির ব্যবসা ও বালু উত্তলন নিয়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চলছে চরম উত্তেজনা কে ব্যবসা করবে কে করবেনা।
ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডাঃ আনোয়ারুল ইসলামের সাক্ষাৎকারে, বাতাসে ধূলিকনা মেশার ফলে কি ধরনের সমস্যা হতে পারে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন,ধুলাবালি বাতাসে মিশে শ্বাস প্রশ্বাসের মাধ্যমে শরিরে ঢুকে বাচ্চাদের নিউমোনিয়া এমনকি বড়দেরও শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে,এবং ইদানিং এ ধরনের রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়ে গিয়েছে।
এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার এস এম শাহীন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যারা এসব অবৈধ মাটির ব্যবসার সাথে জড়িত এবং সরকারে বিনা অনুমতিতে কৃষি জমি ধ্বংস করে পুকুর কাটছে তাদের তদারকি করার জন্য স্ব,স্ব,ইউনিয়নের তহশিলদারদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা কোন সমস্যা মনে করলে আমাকে জানালে সেখানে আমি সরাসরি গিয়ে ব্যবস্হা নিব। তাছাড়াও অনেক জায়গায় নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেছি,এবং আগামী দিনগুলোতে আরও কঠোরভাবে ব্যবস্হা গ্রহন করবেন বলে তিনি জানান।
Leave a Reply