1. nskibria2012@gmail.com : ns kibria : ns kibria
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৪ অপরাহ্ন

নির্মাণ শেষ হতে না হতেই খসে পড়ছে পিচ: আমুয়া হাসপাতাল সড়কে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ!

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬
  • ১৮ বার পঠিত
২০

​রাহাতুজ্জামান কাঠালিয়া (ঝালকাঠি) প্রতিনিধ

​ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার আমুয়া উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও হাসপাতাল সংলগ্ন প্রধান সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় উঠে গেছে কার্পেটিং। পিচ ও পাথর আলগা হয়ে পুরো সড়কজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা। বিশেষ করে বিটুমিনের সঠিক তাপমাত্রা বজায় না রাখা এবং নিম্নমানের কাজের কারণে সামান্য বৃষ্টি পানিতেই উঠে যাচ্ছে রাস্তার পাথর। এর ফলে মোটরসাইকেল ও ছোট যানবাহনগুলো ব্রেক করলেই পিছলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীসহ স্থানীয় বাসিন্দারা।

​সড়ক নির্মাণ ও প্রকৌশল বিশেষজ্ঞদের মতে, এলজিইডি (LGED) রাস্তার নিয়ম অনুযায়ী বিটুমিনের নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও মান বজায় রাখার কথা থাকলেও এখানে তা মানা হয়নি।

​বিটুমিনের সঠিক তাপমাত্রার অভাব: রাস্তায় কার্পেটিংয়ের সময় বিটুমিনের তাপমাত্রা সঠিক মাপে (সাধারণত নিয়ম অনুযায়ী ১৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা এলজিইডি রাস্তার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় মানদণ্ড অনুযায়ী ৯০-৯৫ ডিগ্রি) না হওয়ায় পাথর ও ডাস্টের সাথে বিটুমিন ঠিকমতো মিশ্রিত হয়নি। তাপমাত্রার এই গরমিলের কারণেই মূলত পিচ ও পাথর কামড়ে না ধরে সহজেই আলগা হয়ে গেছে।

​গ্রীন অয়েলের কারচুপি: বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বিটুমিনের নির্দিষ্ট গুণগত মান ও গ্রীন অয়েল ব্যবহারে সঠিক নিয়ম না মেনে এখানে বড় ধরনের তছরুপ বা কারচুপি করা হয়েছে।

​প্রাকৃতিক প্রভাব: কাঁঠালিয়া উপজেলায় দৃশ্যমান উন্নয়ন কাজ হলেও, এই ত্রুটিপূর্ণ কাজের কারণে বৃষ্টির তোড়েই রাস্তার পাথরগুলো উঠে যাচ্ছে।

​স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রায় পাঁচ মাস আগে সড়কটির সংস্কার ও কার্পেটিং কাজ সম্পন্ন করা হয়েছিল। কিন্তু কাজের শুরু থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ছিল।

​পর্যাপ্ত পিচ ও মানসম্মত বিটুমিন ব্যবহার না করে নামমাত্র কার্পেটিং করায় বর্ষার শুরুতেই সড়কটি খসে পড়তে শুরু করেছে।

​পিচ ও পাথর আলগা হয়ে রাস্তাটি এমন একপর্যায়ে পৌঁছেছে যে, মোটরসাইকেল কিংবা অন্যান্য যানবাহন ব্রেক করলে চাকা পিছলে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটবে।

​হাসপাতালে প্রতিনিয়ত যাতায়াতকারী জরুরি রোগী, গর্ভবতী নারী ও বয়স্কদের জন্য এই সড়কটি এখন যন্ত্রণার অন্য নাম

সড়কটির এমন বেহাল দশার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী এলাকাবাসী অনতিবিলম্বে সড়কটির কারিগরি ত্রুটি খতিয়ে দেখে মানসম্মত ও টেকসই সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে, বিটুমিনের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও গ্রীন অয়েল সংক্রান্ত অনিয়মের সাথে জড়িত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..