1. nskibria2012@gmail.com : ns kibria : ns kibria
বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ১০:২৭ পূর্বাহ্ন

বেবিচকের দুই প্রকৌশলীর ‘মামলা নেই’ চিঠি সংশোধন করলো দুদক

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৫ বার পঠিত
১৭

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

দুর্নীতি দমন কমিশন ভবন/ফাইল ছবি
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকের সঙ্গে দুর্নীতির দুটি পৃথক মামলায় আসামি থাকা বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) দুই প্রকৌশলীর ‘মামলা না’ থাকার যে তথ্য আগে দিয়েছিল দুদক, তা এখন সংশোধন করা হয়েছে।

তবে আগের চিঠির তারিখ ও স্মারক নম্বর অপরিবর্তিত রেখেই নতুন চিঠি দেওয়া হয়েছে। সেখানে দুই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে চলমান মামলার নম্বর, তারিখ ও আসামি হওয়ার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত নথি জাগো নিউজের সংগ্রহে রয়েছে।
ওই দুই প্রকৌশলী হলেন- মোহাম্মদ আমিনুল হাসিব ও মইদুর রহমান মো. মওদুদ। আমিনুল বেবিচকের সিভিল সার্কেল প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী ছিলেন। মওদুদ ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী প্রকৌশলী।

 

দুদকের মামলায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সাবেক সার্ভেয়ার কারাগারে
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে একাধিক বিমানবন্দর প্রকল্পে ৮১২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তারিক আহমেদ সিদ্দিকসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে দুদক ৪টি মামলা করে।
দুদকের মামলার নথি অনুযায়ী, কক্সবাজার বিমানবন্দরের প্রকল্পে ১৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় আমিনুল ৯ নম্বর আসামি। ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পে ২১২ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় মওদুদ ৯ নম্বর আসামি। দুটি মামলার তদন্তই দুদকের মানিলন্ডারিং শাখায় চলছে। এই শাখার মহাপরিচালক মো. মোকাম্মেল হক।

এর আগে ‘মামলা নেই’ বলে দেওয়া চিঠির পর আমিনুল নির্বাহী প্রকৌশলী থেকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি পান বলে বেবিচকের একটি সূত্র জানিয়েছে।

সূত্র জানায়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের ১৮ নভেম্বরের একটি স্মারকের জবাবে চলতি বছরের ১১ মার্চ চিঠি দিয়েছিল দুদক। চিঠিতে আমিনুল ও মওদুদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা তদন্তাধীন বা বিচারাধীন নেই বলে জানানো হয়। দুদকের পরিচালক মোহাম্মাদ নাজমুল হাসান চিঠিতে স্বাক্ষর করেন। চিঠির অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং দুদকের চেয়ারম্যান, কমিশনার ও সচিবের একান্ত সচিবদেরও দেওয়া হয়। তখন দুদকে কোনো কমিশন ছিল না। মোহাম্মদ আবদুল মোমেনের নেতৃত্বাধীন কমিশন ৩ মার্চ পদত্যাগ করে। এর ৮ দিন পর ‘মামলা নেই’ বলে চিঠিটি দেওয়া হয়।

 

বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর বিভিন্ন মাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আগের চিঠিতে ভুল তথ্য থাকার কথা স্বীকার করেন দুদক সচিব সাইদুর রহমান খান।

তিনি বলেন, একই তারিখ ও স্মারকের আগের চিঠির স্থলে প্রকৃত তথ্য দিয়ে একটি প্রতিস্থাপন চিঠি পাঠানো হবে। নতুন চিঠিতে কোন কর্মকর্তা কোন মামলার আসামি, তা উল্লেখ থাকবে।

দুদক সচিব জানান, এটি ভুলক্রমে হয়েছে নাকি সচেতনভাবে করা হয়েছে- তা নিশ্চিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা তদন্তাধীন থাকার তথ্য বেবিচককেও জানানো হবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি। সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ, ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা বরখাস্ত
আর বুধবার দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম বলেন, একই তারিখ ও স্মারকে প্রতিস্থাপন করে চিঠি পাঠানো হয়েছে। নতুন চিঠিতেও আগের স্মারক নম্বর ও ১১ মার্চ ২০২৬ তারিখ রাখা হয়েছে। তবে পরিচালক মোহাম্মাদ নাজমুল হাসানের স্বাক্ষরের নিচে ১২ আগস্ট ২০২৬ তারিখ রয়েছে।

প্রতিস্থাপন চিঠিতে বলা হয়েছে, আমিনুল হাসিব দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১-এর ৮৫ নম্বর মামলার এজাহারভুক্ত ৯ নম্বর আসামি। ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি করা মামলাটি তদন্তাধীন। মওদুদ একই কার্যালয়ের ৮৪ নম্বর মামলার এজাহারভুক্ত ৯ নম্বর আসামি। ওই মামলাও ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি করা হয়। সেটির তদন্তও চলছে। প্রথম চিঠিতে সই করা পরিচালক মোহাম্মাদ নাজমুল হাসানই প্রতিস্থাপন চিঠিতে সই করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..