কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাচির চর এলাকায় জাহিদ হাসান (১৮) নামে এক প্রতিবন্ধী যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ভোগডাঙ্গা ইউপি সদস্য তার মা ছলিমা বেগমকে বাঁচাতে গিয়ে বুধবার সকালে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘাতক কাজল খান কাশেমকে আটক করেছে।
কুড়িগ্রাম সদর থানার অফিসার ইনচার্জ খান মোহাম্মদ শাহরীয়ার এসব তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। লাশের ময়না তদন্ত করে স্বজনদের হাতে হস্তান্তর করা হবে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।
এদিকে,জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ পুলক সরকার জানান, মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। এছাড়া তার মাথায় টিউমারে আঘাত লাগায় অতিরিক্ত রক্ষক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।
ভোগডাঙ্গা ইউপি সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ছলিমা বেগম জানান, বুধবার সকালে তার বাড়িতে ভিজিএফ এর চাল পেতে বিভিন্ন এলাকার মহিলারা আসে।অভিযুক্ত ঘাতক কাজল খান কাশেমের বাড়ি ওই মহিলা সদস্যের বাড়ির সামনেই। ভিজিএফ’র চাল দেয়ার লোকজনের কোলাহলে ঘাতক কাশেমের ঘুম ভেঙ্গে যায়। এরপর সে ঘুম থেকে উঠে বাড়ি থেকে কাঠ এনে আমাকে রাস্তার উপর পেটাতে থাকে। আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে আমার প্রতিবন্ধী ছেলে জাহিদ হাসান আমাকে জড়িয়ে ধরে বাঁচানোর চেষ্টা করে। এসময় কাশেম জাহিদকে এলোপাথারী মারপিঠ করে। ঘটনাস্থলে জাহিদও লুটিয়ে পড়ে। কান দিয়ে রক্ত বের হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। আমারও মাথা ফেঁটে রক্ত ঝড়তে থাকে। পরে প্রতিবেশীরা আমাদের দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
তিনি আরও জানান, কাশেমের সাথে বাড়ির রাস্তা নিয়ে আগে থেকেই বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে আমার প্রতিবন্ধী ছেলেটাকে পিটিয়ে হত্যা করলো। আমি বিচার চাই।
Leave a Reply