গাজীপুর জেলা প্রতিনিধিঃ
গাজীপুরের কালীগঞ্জে ব্যবসায়ীর বাড়িতে ডাকাতির সময় বাধা দিলে ডাকাতদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। এ সময় নিহতের স্বামী মন্জুরুল ইসলাম ও ১৬ বছর বয়সী মেয়ে মিম গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) মধ্যরাতে উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের মঠবাড়ি তেতুইবাড়ি এলাজার নগরভেলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত গৃহবধু কামরুন আক্তার (৩৫) ওই গ্রামের রড-সিমেন্ট ব্যবসায়ী মঞ্জুরুল ইসলামের স্ত্রী। আহতরা হলেন মঞ্জুরুল ইসলাম (৪০) ও তাঁর মেয়ে সানজিদা আক্তার মিম (১৬)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি মঞ্জুরুল বাড়িতে বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেন এবং গত বৃহস্পতিবার ব্যাংক থেকে ২০ লাখ টাকা তুলে বাড়িতে রাখেন। শুক্রবার মধ্যরাতে গেটের তালা ভেঙে পাঁচ-ছয়জনের একদল ডাকাত ঘরে ঢুকে আলমারি থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করার সময় বিষয়টি টের পান কামরুন আক্তার। এসময় তিনিসহ তার স্বামী মঞ্জুরুল ও বড় মেয়ে মিম ডাকাতদের বাধা দিলে ডাকাতরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁদের এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এতে তিনজনই গুরুতর আহত হন। গুরুতর আহত কামরুন আক্তারকে স্থানীয় ডিভাইন মার্সি হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের প্রধান ডা. মো. শাহাদাৎ হোসাইন তুহিন বলেন, রাত সোয়া ৪টার দিকে কামরুন আক্তারকে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁর মাথা ও বুকের নিচে গভীর জখম ছিল এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। হাসপাতালে আনার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়।
মঞ্জুরুল ইসলাম ও তাঁর মেয়ে মিমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই স্বজনেরা ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যান।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, হামলার ধরন দেখে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা ডাকাত বেশে এসে এই হামলা চালিয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত এবং ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
শনিবার সকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ ও তদন্ত শুরু করেছে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।
এ জাতীয় আরো খবর..