নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি
নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলা ও মদন উপজেলার শেষ সীমানায় দূরুন্দা বিলের খাল দখল করে বেআইনিভাবে মাছ ফিশিং কার্যক্রম ও শামুক উত্তোলনকারী নৌকা ওয়ালাদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
চাঁদা আদায় এবং জোরপূর্বক দুরুণদা বিলের অংশ দুরুন্দা খাল দখলের বিরুদ্ধে উপজেলা গোবিন্দশ্রী গ্রামের প্রভাবশালী চারজন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে খালিয়াজুরী ও মদন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন গোবিন্দশ্রী বড্ডা গ্রামের ওয়ালিদ মিয়া (৪০) বাদী হয়ে।
অভিযুক্তরা হলেন, উপজেলা গোবিন্দশ্রী গ্রামের শান্ত মিয়ার ছেলে গেন্দু মিয়া (৪০), আব্দুল বারীর ছেলে সামসু ফকির ( ৬৫), মৃত মতি মিয়ার ছেলে নুরুন্নবী ( ৩৫), মৃত আব্দুর রহিছের ছেলে জজ মিয়া(৪০)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জগন্নাথপুর ও বোয়ালি মৌজায় রাসুয়ানী বিলের একটি অংশ হচ্ছে দুরুন্দা খাল। গত বছরের ৩০ চৈত্র ১৪৩২ সাল হইতে ৩০ চৈত্র ১৪৩৩ সাল পর্যন্ত অভিযুক্তরা দূরুন্দা খাল তারা
খাস কালেকশনে আনে যা তিন মাস পূর্বে মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে।
দুরুন্দা খাল জুড়ে অভিযুক্তরা জোরপূর্বক ভাবে ডালপালা বাঁশ দিয়ে মাছ ফিশিং করছে আসছে নিয়মিত।
দুরুন্দা খাল থেকে শামুক উত্তোলন করে হাঁসের খাবার সংগ্রহ করতে গেলে তাদেরকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে এবং ২০ হাজার করে টাকা দিলে হাঁসের খামার শামুক উত্তোলন করতে পারবে।
নইলে দুরুন্দা বিলের আশেপাশে কোন নৌকা চলাচল এবং শামুক উত্তোলন করতে তারা দেবে না।
এলাকার কিছু গরীব নিরিহ মৎস্যজীবী মাছ ধরা সরকারিভাবে বন্ধ থাকার কারণে তারা জীবিকা নির্বাহে হাঁসের খাবার শামুক সংগ্রহ করে হাঁসের খামারীদের কাছে তারা শামুক বিক্রি করে পরিবার
খাবার যোগাচ্ছেন।
সাধারণ জেলেরা শামুক উত্তোলন করে হাঁসের খাবার বিক্রি করে তারা কোন রকম ডাল ভাত খেয়ে জীবন যাপন করছে। তারা কি করে ২০ হাজার করে টাকা চাঁদা দিবে বিষয়টি নিয়ে সুশীল সমাজের লোকজনের মনে প্রশ্ন জাগে।
এ ঘটনায় গোবিন্দশ্রী বড্ডা গ্রামের নজরুল ইসলাম জানান, দুরুন্দা খাল অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে বে-আইনীভাবে ফিশিং কার্যক্রম চালাচ্ছে গোবিন্দশ্রী গ্রামের প্রভাবশালী কিছু লোকজন মিলে।
যেকোনো সময় ঘটে যেতে পারে এলাকায় বড় থেকে বড় দুর্ঘটনা।
প্রশাসনের কাছে আমাদের অনুরোধ রইলো
চাঁদাবাজদের আইনের আওতায় এনে বিচার দাবি জানাই।
অভিযোগকারী ওয়ালিদ মিয়া বলেন, দরুণদা খালটি চাঁদা আদায়কারীরা খাসকালেকশনে এনেছে সরকারের কাছ থেকে।
এখন শামুকের নৌকাওয়ালারা তাদেরকে ২০ হাজার করে টাকা চাঁদা দিতে হবে।
নইলে নৌকা দিয়া হাওর থেকে হাসের খাবার শামুক উত্তোলন করতে দেবে না।
অথচ আমরা উপজেলা প্রশাসনের কাছে খবর নিয়ে দেখেছি চলতি বছরে কোন জলমহল সরকারিভাবে খাস কালেকশন দেয়নি। তবে তারা কি করে দুরূন্দা খাল জলমহল জোরপূর্বক দখলে নিয়েছে এবং বিভিন্ন নৌকোয়ালাদের কে মারধর করছে এবং তারা চাঁদা আদায় করছে বিষয়টা প্রশাসনের কাছে কঠোর ভাবে হস্তক্ষেপের দাবি জানাই।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত গেন্দু মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুরুণদা খালের খাসকালেকশন এর কাগজপত্র আছে নোজেল মিয়ার কাছে।
আমাদের নামে অভিযোগ দিয়েছে আমরা চাঁদা আদায় করছি এইটা মিথ্যা কথা যারা অভিযোগ দিয়েছে তারাই চাঁদা আদায় করছে শামুকের নৌকা ওয়ালাদের কাছ থেকে।
আমাদের কাছে খাসকালেকশনের কাগজপত্র আছে আমরা মাছ পিশিং করছি দরুন্দা খালে।
খাস কালেকশনের কথা বলে অবৈধভাবে জোরপূর্বক দুরুন্দা খাল জলমহল দখলের বিষয়ে মদন উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাদির হোসেন শামীম বলেন, মদন এবং খালিয়াজুরি সীমানার ঘটনা যেহেতু সরজমিনে গিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।।
এ ঘটনা খালিয়াজুরী উপজেলার নির্বাহী অফিসার মোঃ ওয়ালিদুজ্জামান তিনি বলেন, আমি খালিয়াজুরী উপজেলার ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর কোন জলমহল সরকারিভাবে খাস কালেকশন দেওয়া হয়নি এবং বাতিলও করিনি।
অভিযোগের বিষয়েটি খতিয়ে দেখে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।