সিডনি প্রতিনিধি
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে অস্ট্রেলিয়ার সিডনির লাকেম্বায় ‘জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে প্রবাসীদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (৯ আগস্ট) এ সভার আয়োজন করা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) অস্ট্রেলিয়া।
‘৩৬ জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উদযাপন কমিটি’র আহ্বায়ক তারেক উল তারেকের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপি অস্ট্রেলিয়ার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এনামুল হক ভূইয়া।
সভায় বিএনপি অস্ট্রেলিয়ার সাবেক সভাপতি মনিরুল হক জর্জ, উপদেষ্টা রুহুল আহম্মেদ সওদাগর, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবুল হাছান, সিনিয়র সহ-সভাপতি একেএম ফজলুল হক শফিক, মোবারক হোসেন, বেলাল হোসেন ঢালী, জিয়া পরিষদ অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি মোহাম্মদ কামরুজ্জামান মোল্লা ঝিন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক এএনএম মাসুম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. খাইরুল কবির পিন্টু, মিনহাজ উদ্দিন, মোহাম্মদ ইরফান খান, মোহাম্মদ কুদ্দুসুর রহমান, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক তাসলিমা কবিরসহ অনেকে বক্তব্য রাখেন।
নিউ সাউথ ওয়েলস বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রায়হান হাসনাতের সঞ্চালনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আব্দুস সাত্তার, আব্দুল মুমিন, লিন্টাস পেরেরা, বাবুল আহাম্মদ, অসিত হোমেজ, মোহাম্মদ দুলালসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, জুলাইয়ের কোটা সংস্কার আন্দোলন পরবর্তীতে এক দফার আন্দোলনে রূপ নেয়। এর পেছনে বিএনপির দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রাম এবং সেই সময়ের রক্তঝরা রাজনৈতিক ইতিহাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সেই আন্দোলনের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
বক্তারা আরও বলেন, ২০২৪ সাল বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তবে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে ২০২৪ সালের গণআন্দোলনকে এক করে দেখার সুযোগ নেই। ১৯৭১ ছিল স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মুক্তিযুদ্ধ, আর ২০২৪ ছিল একটি গণআন্দোলন, যার সঙ্গে ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের তুলনা করা যেতে পারে।
আলোচনায় শেখ হাসিনা সরকারের সময় মানুষের মতপ্রকাশ ও রাজনৈতিক অধিকার সীমিত করা, রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগও তুলে ধরেন বক্তারা।
সভায় বক্তারা জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভূমিকা, আন্দোলনের সময় প্রবাসীদের বিভিন্ন কর্মসূচি এবং ভবিষ্যতে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় প্রবাসীদের আরও সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।