মাইদুল ইসলাম
জেলা প্রতিনিধি নীলফামারীঃ
ঢাকায় রাকিবুল ইসলাম রাকিব (১৭) নামে এক মেধাবী শিক্ষার্থীকে হত্যার পর তার মরদেহ কার্টুনে ভরে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বসুনিয়া পাড়ায় নিজ বাড়ির সুপারি বাগানে মাটিচাপা দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর ২০২৬) ঢাকা ও ডিমলা থানার তদন্তকারী দলের যৌথ অভিযানে মাটির নিচ থেকে কার্টুনে রাখা রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর নীলফামারী মর্গে পাঠিয়েছে।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই থেকে তিন মাস আগে ঢাকার ধানমন্ডির শুক্রাবাদ এলাকায় রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সঙ্গে আব্দুল্লাহ মামুন (১৮) নামে এক যুবকের পরিচয় হয়। রাকিব টাঙ্গাইলের ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। ঢাকায় কোচিং করার জন্য তিনি পূর্ব শেওড়াপাড়া ও মিরপুর-১০ এলাকায় অবস্থান করছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, বন্ধুত্বের সম্পর্কের সূত্র ধরে গত ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাকিবকে অপহরণ করা হয়। পরে মুক্তিপণের টাকা নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে তাকে হত্যা করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, হত্যার পর রাকিবের মরদেহ একটি কার্টুনে ভরে ‘ইলিশ মাছের কার্টুন’ হিসেবে ঢাকার কল্যাণপুর থেকে বাসে করে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে ডিমলায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে আব্দুল্লাহ মামুন তার নিজ বাড়ি নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ২ নম্বর বালাপাড়া ইউনিয়নের বসুনিয়া পাড়ার সুপারি বাগানে গর্ত করে কার্টুনসহ মরদেহটি মাটিচাপা দেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ কাজে তার বাবা আফসার আলী সহযোগিতা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর থেকে আফসার আলী পলাতক রয়েছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, মরদেহ ডিমলায় মাটিচাপা দেওয়ার পর আব্দুল্লাহ মামুন ঢাকায় ফিরে আসেন। এরপর এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে মৃত রাকিবকে ভিডিওতে জীবিত হিসেবে দেখিয়ে তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলে চার লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করেন বলে জানা গেছে।
মুক্তিপণের টাকা দেওয়ার পরও রাকিবকে ফেরত না পাওয়ায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে গত ৩ অক্টোবর ঢাকার কাফরুল থানায় অপহরণের অভিযোগে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। তদন্তের একপর্যায়ে ওই দিনই ঢাকায় আব্দুল্লাহ মামুনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আব্দুল্লাহ মামুনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাকিবকে হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। এ ঘটনায় ৫ অক্টোবর মামলা রেকর্ড করা হয়।
নিহত রাকিবুল ইসলাম রাকিব একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি টাঙ্গাইলের গোপালপুর থানার হামনগর ইউনিয়নের উদ্যমপুর গ্রামের দক্ষিণ পাড়ায়। তিনি ওই গ্রামের খাদেমুল ইসলামের দ্বিতীয় ছেলে বলে জানা গেছে।
এরপর ঢাকা কাফরুল থানার অফিসার ইনচার্জ, ওসি (তদন্ত), ডিএমপি পুলিশ, ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ আশরাফুল ইসলাম, ওসি (তদন্ত) দীপকর অধিকারী এবং গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যদের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ডিমলার বসুনিয়া পাড়ায় আব্দুল্লাহ মামুনের বাড়ি সংলগ্ন সুপারি বাগানে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় কার্টুনে রাখা রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।