ক্রীড়া ডেস্ক:
ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই ব্রাজিল আধিপত্য দেখালেও হাইতি ভেঙে পড়েনি। বরং সুযোগ পেলেই পাল্টা আক্রমণে গেছে দলটি।
পরিসংখ্যান বলছে, পুরো ম্যাচে ব্রাজিল ৯টি শট নিলেও হাইতির শট ছিল ৮টি। লক্ষ্যভেদী শটেও খুব বেশি ব্যবধান ছিল না। এতে স্পষ্ট, স্কোরলাইনের চেয়ে ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল বেশি।
প্রথমার্ধে ম্যাথেউস কুনহার জোড়া গোল আর ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের একটি গোলে পিছিয়ে পড়ে হাইতি। তবে দ্বিতীয়ার্ধে দলটি আরও সংগঠিত হয়ে আক্রমণে মনোযোগ দেয়। কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা পায়নি তারা।
বিশেষ করে মাঝমাঠ থেকে বল এগিয়ে নেওয়া আর দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকেই ছিল হাইতির মূল শক্তি। ব্রাজিলের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে এই সাহসী ফুটবলই দলটির ইতিবাচক দিক হিসেবে ধরা দিচ্ছে।
আক্রমণ বনাম আক্রমণ: পরিসংখ্যানের আড়ালে আসল লড়াই
ফুটবল মহাতারকাদের নিয়ে গড়া ব্রাজিলের আক্রমণভাগের সামনে হাইতি স্রেফ উড়ে যাবে—ম্যাচের আগে এমনটাই ছিল অনেকের ধারণা। কিন্তু প্রথমার্ধে ৩ গোল খেয়ে ব্যাকফুটে চলে যাওয়ার পরও দমে যায়নি সেবাস্টিয়ান মিগনের শিষ্যরা। উল্টো দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিলকে বোতলবন্দী করে একের পর এক আক্রমণ শানিয়েছে তারা।
খেলা শেষে ম্যাচ পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে হাইতির এই সাহসী ফুটবলের চিত্র ফুটে ওঠে:
মোট শট: ব্রাজিল ৯, হাইতি ৮
টার্গেটে শট: ব্রাজিল ৫, হাইতি ৪
বল দখল: ব্রাজিল ৫৭%, হাইতি ৪৩%
কর্নার: ব্রাজিল ৪, হাইতি ৪
পরিসংখ্যান স্পষ্ট বলছে, বল দখলে ব্রাজিল কিছুটা এগিয়ে থাকলেও গোলমুখে আক্রমণ করার ক্ষেত্রে ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্সকে ব্যস্ত রাখতে বিন্দুমাত্র ছাড় দেয়নি হাইতি। বিশেষ করে কর্নার এবং অন-টার্গেট শটের অনুপাতে তারা ছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সমকক্ষ।
ম্যাচের ৬৬তম মিনিটে হাইতিয়ান স্ট্রাইকার রুবেন প্রভিডেন্সের ১৫ মিটার দূর থেকে নেওয়া ডান পায়ের জোরালো শটটি ব্রাজিলের রক্ষণভাগে ডিফ্লেক্টেড হয়ে পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়। এটি গোল হলে ম্যাচের ভাগ্য অন্যরকমও হতে পারত। এছাড়া জোসু ক্যাসিমির ইনজুরির শঙ্কা উড়িয়ে মাঠে ফিরে যেভাবে ব্রাজিলের ডিফেন্ডার মারকুইনহোস ও গ্যাব্রিয়েল মাগাহায়েসকে চাপে রেখেছিলেন, তা ছিল দেখার মতো।
মাঝমাঠে ড্যানলি জিন জ্যাকুয়েস এবং জিন-রিকনার বেলগার্ডেরা শারীরিক শক্তির ফুটবলে ব্রুনো গিমারায়েস ও ক্যাসেমিরোর মতো তারকাদের কঠিন পরীক্ষা নিয়েছেন। ব্রাজিলের গোলরক্ষক আলিসন বেকারকে বেশ কয়েকটি দুর্দান্ত সেভ না করতে হলে হাইতি এই ম্যাচে অন্তত ১ বা ২ টি গোল পেতেই পারত।