নিজস্ব প্রতিবেদক
যে পদ বা পদবি নেই ন্যাশনাল বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে, সেই পদে রহস্যজনকভাবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. তোফায়েল আহমেদ দীপু নামে এক গাড়িচালক। তাকে পরিচালক নিজ স্বাক্ষরিত পত্রের মাধ্যমে নিয়োগ দিয়েছেন। যিনি নিজেকে ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নাসির উদ্দীনের ‘পরিচালকের ব্যক্তিগত সহকারী বা পিএস-টু’ বলে পরিচয় দিয়ে থাকেন। তার ফেসবুক প্রোফাইলেও এই পরিচয় উল্লেখ আছে।
প্রশ্ন উঠেছে যে, কোন আইনে ‘পদ’ সৃষ্টি করে দীপুকে নিয়োগ দিলেন পরিচালক নাসির উদ্দীন?
অভিযোগ রয়েছে, দীপু ইনস্টিটিউটের টেন্ডার থেকে শুরু করে, আউটসোসিং নিয়োগ, কেনাকাটাসহ পরিচালকের হয়ে এই হাসপাতালের সব কিছুই নিয়ন্ত্রণ করেন। ১৯ হাজার টাকা বেতনে নিয়োগ পাওয়া দীপু চড়েন ব্যক্তিগত একটি বিলাসবহুল গাড়িতে। ওই মিতসুবিশি এক্সপানডার গাড়িটির নম্বর-ঢাকা মেট্রো-ঘ ১৬-৭৪১৪, যা দীপুর মালিকানাধীন বলে অনুসন্ধানে প্রাপ্ত কাগজপত্র যাচাই করে নিশ্চিত হয়েছে ।
তবে প্রশ্ন উঠেছে- ১৯ হাজার টাকা বেতনের কর্মচারী ব্যক্তিগত গাড়ি পেলেন কোথায়?
হাতে আসা কাগজপত্র অনুযায়ী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবিরের সঙ্গে ‘এএমজেড হাসপাতালে’ শেয়ার রয়েছে পরিচালক নাসির উদ্দীনের। সেখানে রোগীও দেখেন তিনি।
সরকারি চিকিৎসক হয়ে কীভাবে একটি বেসরকারি হাসপাতালের পরিচালক হলেন, সে বিষয়ে জানতে চাইলে নাসির উদ্দীন বলেন, ‘আমি বার্ন ইউনিট ছাড়া কোনো হাসপাতালের পরিচালক না। এখন সামনে রোগী আছে পরে কথা বলবো।’
অভিযোগ রয়েছে- তিনি নিয়মিত ন্যাশনাল বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের রোগীদের নানান প্রলোভন দেখিয়ে প্রগতি সরণির ‘এএমজেড’ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করান।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে পরিচালক নাসির উদ্দীন বলেন, ‘আমি ২১ তারিখ (জুলাই) পর্যন্ত ব্যস্ত থাকব, পরে অফিসে আসুন কথা বলবো।’
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, টেন্ডার-বাণিজ্য, স্বেচ্ছাচারী নিয়োগ, হাসপাতালে বেশিরভাগ ওষুধের ঘাটতি, বেশি দামে নিম্নমানের অপারেশন সরঞ্জাম ক্রয়, চিকিৎসক, অধ্যাপক-কর্মচারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও ভয়ভীতি প্রদর্শন- এসব এখন ইনস্টিটিউটের নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা।
পরিচালকের এই স্বেচ্ছাচারিতা, দুর্নীতি ও অনিয়ম ‘ওপেন সিক্রেট’ হলেও ভয়ে কথা বলেন না কর্মরতরা। তারা নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়েছেন।
জানা গেছে, পরিচালক নাসির উদ্দীনের চাকরিবিধি বহির্ভূত কর্মকাণ্ড ও তার প্রশ্রয়ে দীপুর দাপটের বিষয়ে হাসপাতালের ১৫ জন চিকিৎসক একাধিকবার লিখিত অভিযোগ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টার কাছে। তবে অভিযোগের তদন্তই শুরু হয়নি। উল্টো অভিযোগকারীদের মধ্যে কয়েকজনকে সরিয়ে দেওয়া হয় ওই ইনস্টিটিউট থেকে।
জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পান নাসির উদ্দিন। তিনি বিএনপিপন্থি চিকিৎসক সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না; বরং তার ওঠাবসা ছিল আওয়ামী লীগ সরকারঘনিষ্ট স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ ‘স্বাচিপ’র নেতাকর্মীর সঙ্গে।
আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে সখ্যতার অসংখ্য ছবি তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আছে। সে সময়ে সুবিধাজনক অবস্থায় ছিলেন। দুবার বিশেষ সুবিধার আওতায় রেগুলার পদোন্নতির আগেই চলতি দায়িত্বে পদোন্নতি পেয়েছেন তিনি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ হেলালের কন্যাকে প্রাইভেট পড়ানোর সুবাদে অল্প সময়ের জন্য ফরিদপুর ছাড়া তাকে কখনো ঢাকার বাইরে বদলি হতে হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান সরকারের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর এলাকার বাসিন্দা হওয়ার সুবাদে পরিচালক নাসির উদ্দিন সবসময় প্রভাব খাটিয়ে এসেছেন। পতিত স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তৎকালীন স্বাচিপ-ঘনিষ্ঠ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর প্রভাব দেখাতেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দেখিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারীর প্রভাব।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, প্রভাবশালীদের নাম ব্যবহার করেই তিনি বিভিন্ন অনৈতিক কাজ করতে চাপ প্রয়োগ করে থাকেন।
প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বলছে, সম্প্রতি বার্ন ইনস্টিটিউটে দুটি আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন কেনা হয়েছে। প্রতিটির দাম দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৪২ লাখ টাকা। অথচ বাজারে এই মেশিনের প্রকৃত দাম মাত্র ৬৫ লাখ টাকার বেশি হওয়ার কথা না। ওয়েবসাইটে এই মেশিনের দাম দেওয়া আছে ৩০ লাখ টাকা।
বার্নের একজন চিকিৎসক বলেছেন, ভ্যাট ট্যাক্স অন্য খরচ দিয়ে আরও যদি ৩৫ লাখ টাকা আসে তাতে দাড়ায় ৬৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ দ্বিগুণেরও বেশি দামে কেনা হয়েছে প্রতিটি মেশিন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে টে…