নিজস্ব প্রতিবেদক :
শেয়ারবাজারে ভালো মানের কোম্পানি তালিকাভুক্ত করতে লিস্টিং ফিতে বড় ধরনের ছাড় দিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। নতুন প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও), ডিরেক্ট লিস্টিং এবং স্থির আয়ের সিকিউরিটিজ বাজারে আনতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করলে নতুন ইস্যুয়ার কোম্পানিগুলো বিশেষ এই ছাড়ের সুবিধা পাবে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) রাজধানীর নিকুঞ্জে ডিএসই টাওয়ারের মাল্টিপারপাস হলে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ তথ্য জানান ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান। এ ছাড়া বিএসইসির কমিশনাররা ও ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম।
ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, শেয়ারবাজারে নতুন কোম্পানি ও বন্ড তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান বাধা ছিল উচ্চ লিস্টিং ফি। নতুন ইস্যুয়ার কোম্পানিগুলোকে বাজারে আসতে উৎসাহিত করতে ডিএসই পরিচালনা পর্ষদ সম্প্রতি লিস্টিং ফি সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়েছে। একই সঙ্গে এই ফি সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আগামী ৩১ মার্চ ২০২৭-এর মধ্যে যারা আইপিও বা ডিরেক্ট লিস্টিংয়ের জন্য আবেদন করবে, তারা নির্ধারিত লিস্টিং ফির ওপর আরও ৫০ শতাংশ ছাড় পাবে।
বাজারের প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নের বিষয়ে মমিনুল ইসলাম বলেন, লেনদেনে গতি আনতে ‘স্ট্রিপ নেটিং’ ও ‘টি প্লাস ১’ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার প্রযুক্তিগত ও নিয়ন্ত্রক প্রস্তুতির অনুমোদন সম্পন্ন হয়েছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এগুলো কার্যকর করা হবে।
বন্ডের তালিকাভুক্তি বাড়ানোর বিষয়ে ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, বিএসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী বন্ডের অনুমোদনের ক্ষেত্রে লিস্টিং বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এ নিয়ে যেসব জটিলতা রয়েছে, তা নিরসনে কাজ চলছে।
এ ছাড়া ডিএসইর ইনভেস্টর প্রটেকশন ফান্ড (আইপিএফ) থেকে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এর ফলে কোনোভাবেই ব্রোকারেজ হাউজগুলোর নিজস্ব দায়বদ্ধতা কমবে না।
অনুষ্ঠানে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার বলেন, বাজারের উন্নয়ন ও সুশাসন জোরদারে ডিএসই ও বিএসইসি সমন্বিতভাবে কাজ করছে। ভালো মানের আইপিও আনা, ফ্রি মার্জিন, সিসি অ্যাকাউন্ট পরিচালনা এবং আগামী পাঁচ বছরের কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ চলছে।