*ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কালিপুর, মহেশপুর এলাকায় একটি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল জড়িত ছিল বলে অভিযোগ করেছেন মোছাম্মৎ সাবেরা আক্তার ও মোহাম্মদ সাইফুল ফাহাদ। অন্যদিকে, এ ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার বিষয়ে এক ভিডিও বক্তব্যে নিজের অবস্থান তুলে ধরে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাহ আলম শাহীন। তিনি ঘটনাটিকে সাজানো বলেও দাবি করেন।
অভিযোগকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকাল আনুমানিক ১১টা ৫০ মিনিটে এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় বাড়িতে পরিবারের কয়েকজন সদস্য, মা, ছেলে ও বোন উপস্থিত ছিলেন বলে জানানো হয়েছে। পরিবারের প্রধান ব্যক্তি ঢাকায় চিকিৎসাধীন থাকায় বাড়িতে পরিবারের সদস্যরা অবস্থান করছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগকারীদের দাবি, শাহ আলম শাহীন, গোলাপ মিয়া, সাকিব, আতিকসহ আরও কয়েকজন এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, হামলা ও লুটপাটের সময় বাড়ি থেকে প্রায় ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ পাঁচ লাখ টাকা, পাসপোর্ট এবং গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় কয়েকজন সাক্ষী রয়েছেন বলেও দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা।
টাকা লেনদেনের বিরোধ নিয়ে শাহ আলম শাহীনের বক্তব্য
অন্যদিকে, শাহ আলম শাহীন তাঁর ভিডিও বক্তব্যে জানান, ফাহাদের বাবার সঙ্গে তাঁর আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। ইতালিতে নেওয়ার কথা বলে তিনজন ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে ওই টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে বিরোধ চলছিল। টাকা ফেরত চাইতে গেলে তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
শাহ আলম শাহীনের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি আট থেকে দশ দিন আগে দেশে এসেছেন। টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে রোববার তিনি আত্মীয়স্বজনদের নিয়ে সংশ্লিষ্ট বাড়িতে যান বলে জানান। তাঁর দাবি, পরবর্তী সময়ে আবারও টাকা চাইতে গেলে তাঁরা টাকা না পেয়ে ফিরে আসেন।
তিনি আরও দাবি করেন, বাড়িতে ভাঙচুর ও কাগজপত্র এলোমেলো করার অভিযোগের সঙ্গে তিনি বা তাঁর লোকজন জড়িত নন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁরা বাড়িতে গেলেও ঘরের ভেতরে প্রবেশ করেননি। পুরো ঘটনাটিকে তিনি সাজানো বলে উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে জানানো হলে তিনি বলেন, *অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বক্তব্যে পরস্পরবিরোধী তথ্য উঠে এসেছে। এক পক্ষ হামলা, ভাঙচুর ও মূল্যবান সামগ্রী লুটের অভিযোগ তুলেছে; অন্য পক্ষ টাকা লেনদেনসংক্রান্ত বিরোধের কথা উল্লেখ করে হামলা ও লুটপাটে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।