রাজবাড়ীর জেলা প্রতিনিধি,
ইঞ্জিন থেকে ওয়াগনের ৬ বগি বিচ্ছিন্ন, ত্রিমুখী সংঘর্ষে প্রাণ গেল দুজনের
ওয়াগন বিচ্ছিন্ন হয়ে ত্রিমুখী সংঘর্ষ। রাজবাড়ীর খানখানাপুর রেলগেটে ভয়াবহ এক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন। ইঞ্জিন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গড়িয়ে আসা ছয়টি ওয়াগনের ধাক্কায় দুমড়েমুচড়ে যায় যাত্রীবাহী বাস, মাহেন্দ্র ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। ত্রিমুখী ওই সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন দুইজন, আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন।
রোববার রাত পৌনে ৯টার দিকে রাজবাড়ী-ঢাকা রেলপথের খানখানাপুর লেভেল ক্রসিংয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন-বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের শামুকখোলা গ্রামের মঈনুদ্দিন শেখের ছেলে মালেক শেখ (৪৫) এবং রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড় ব্রাকপাড়া এলাকার মতি পাটোয়ারীর ছেলে মনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী (৫০)। দুজনই মাহেন্দ্রটির যাত্রী ছিলেন।
স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ জানিয়েছে, ফরিদপুর পাওয়ার প্লান্টে তেল সরবরাহ শেষে ৩০টি খালি ওয়াগন নিয়ে একটি বিশেষ ট্রেন রাজবাড়ীর দিকে ফিরছিল। খানখানাপুর রেলগেট অতিক্রম করার মুহূর্তেই ট্রেনটির পেছনের ছয়টি ওয়াগনের সংযোগকারী চেইন ছিঁড়ে যায় এবং সেগুলো মূল ইঞ্জিন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
এ সময় ইঞ্জিনের সঙ্গে সামনের অংশ চলে যেতে দেখে দায়িত্বপ্রাপ্ত গেটম্যান ভাবেন পুরো ট্রেন পার হয়ে গেছে। তিনি তৎক্ষণাৎ রেলগেটের বার তুলে দেন। বার ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই গোয়ালন্দ মোড় থেকে দৌলতদিয়া ঘাটগামী ‘আনন্দ ডিলাক্স’ নামে একটি বাস, গোয়ালন্দমুখী একটি মাহেন্দ্র এবং বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা দ্রুত রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করে। ঠিক তখনই পেছন থেকে বিচ্ছিন্ন ছয়টি ওয়াগন এসে যানবাহনগুলোকে ধাক্কা দেয়।
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে চার যানবাহনের সংঘর্ষ, ফুপাতো-মামাতো ভাই নিহত
সংঘর্ষের বিকট শব্দে স্থানীয়রা ছুটে আসেন এবং উদ্ধার কাজে হাত দেন। খবর পেয়ে খানখানাপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র, আহলাদীপুর হাইওয়ে থানা, জেলা পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ ও রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের টিম দ্রুত এসে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. শামীম মোল্লা জানান, পৌনে ৯টার দিকে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় চারজনকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মালেক শেখ ও মনোয়ার হোসেন মারা যান।
চিকিৎসকরা জানান, চিকিৎসাধীন বাকিদের মধ্যেও দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এছাড়া আহত অন্য যাত্রীদের গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
আহলাদীপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, ট্রেন চলে গেছে মনে করে গেট খুলে দেওয়ার পরই মূলত এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। ওয়াগনের ধাক্কায় মাহেন্দ্রটি ছিটকে অনেক দূরে গিয়ে পড়ে। দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও অন্যান্য যানবাহন উদ্ধার করা হয়েছে।
এ দুর্ঘটনার পর রাজবাড়ী-ঢাকা রুটে সাময়িকভাবে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে দুর্ঘটনাকবলিত ওয়াগন ও যানবাহন সরিয়ে নেওয়ার পর লাইন পরিষ্কার হলে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়। ঘটনা তদন্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।