1. nskibria2012@gmail.com : ns kibria : ns kibria
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৭:২১ অপরাহ্ন

সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে না পারার অভিযোগ, বন্যায় কৃষকের মজুত ধান নষ্ট

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬
  • ৭ বার পঠিত

বিশেষ প্রতিনিধি
‘প্রকৃত কৃষক হয়েও ধান বিক্রি করতে পারিনি, ন্যায়বিচার না পেলে পরিবার নিয়ে অনশনে যাব’
আব্দুর রাশেদ

বান্দরবানের লামা উপজেলায় সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে প্রকৃত কৃষক বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কৃষি কার্ডে ৫ একর জমিতে ধান চাষের তথ্য থাকা সত্ত্বেও সরকারি খাদ্য গুদামে ধান বিক্রির সুযোগ পাননি বলে অভিযোগ করেছেন লামা উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি ও কৃষক ফখরুল ইসলাম। তার দাবি, সময়মতো ধান গ্রহণ না করায় বন্যার পানিতে তার মজুত ধানের একটি অংশ ভেসে যায় এবং বাকিটা পানিতে ভিজে নষ্ট হয়।
ফখরুল ইসলামের অভিযোগ, সরকারি খাদ্য গুদামে ধান দিতে গেলে বস্তা সংকটের কথা বলে তাকে বারবার অপেক্ষা করতে বলা হয়। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও ধান গ্রহণ না করায় তিনি বাড়িতে ধান মজুত রাখতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে বন্যার পানিতে সেই ধানের উল্লেখযোগ্য অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তিনি বলেন, “আমার কৃষি কার্ডে ৫ একর জমিতে ধান চাষের তথ্য রয়েছে। প্রকৃত কৃষক হিসেবে সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু বস্তা নেই বলে বারবার পরে আসতে বলা হয়। শেষ পর্যন্ত ধান জমা দিতে না পেরে বাড়িতে রাখতে হয়। পরে বন্যায় কিছু ধান ভেসে যায়, আর কিছু ধান পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে যায়।”
তার দাবি, প্রকৃত কৃষক হয়েও সরকারি গুদামে ধান বিক্রির সুযোগ না পাওয়ায় সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে কৃষকদের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্তেরও দাবি জানান তিনি।
ফখরুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে তিনি লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে অভিযোগের পরও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর প্রতিকার পাননি বলে দাবি করেন।
তিনি বলেন, “আমি একজন প্রকৃত কৃষক হিসেবে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ধান বিক্রির সুযোগ এবং আমার ক্ষতির বিষয়ে ন্যায়বিচার চাই। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়া হলে বিষয়টি জনপ্রতিনিধি ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনব। প্রয়োজনে পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি কিংবা আমরণ অনশনে যাওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করব।”
এ ঘটনায় সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে প্রকৃত কৃষকদের অংশগ্রহণ, কৃষি কার্ডধারীদের ধান গ্রহণের প্রক্রিয়া, বস্তা সরবরাহে কোনো সংকট ছিল কি না এবং কৃষকদের সঙ্গে কোনো ধরনের অনিয়ম বা বৈষম্য হয়েছে কি না—তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে লামা সরকারি খাদ্য গুদামের (এলএসডি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাবু সুকান্তের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে সংযুক্ত করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..