চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
‘বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ১৫ মাস এরও ওপরে। শাটল ট্রেনও অফ গত মার্চ থেকে। এই পরিবহন ফি’টা কার পকেটে যাবে? যেখানে আমাদের জন্য এখন এক টাকাও খরচ হচ্ছে না। সেখানে কেন আমাদের থেকে সব আদায় করা হচ্ছে? অবিলম্বে সব ফি আদায় বন্ধ করা হোক’।
কথাগুলো বলছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী রিপন সরকার। ইউজিসির নির্দেশনা অনুযায়ী চবির বিভিন্ন বিভাগের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। সেখানে ভর্তি ফি এবং পরীক্ষা ফি কোনোপ্রকার না কমিয়ে আগের মতোই নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
বিভিন্ন বর্ষে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ভর্তি রশিদ থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, জননেত্রী শেখ হাসিনা হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞান অনুষদের মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ভর্তি ফি ১১৩ টাকা, বেতন ৩৩০ টাকা, গ্রন্থাগার ফি ২২৩ টাকা, ল্যাবরেটরি ফি ৩২৭ টাকা, রেজিস্ট্রেশন ফি ৩৬৩ টাকা, হল উন্নয়ন ফি ৫৮, হল ক্রীড়া ফি ৫৮, হল ইউনিয়ন ফি ৫৮, বিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া ফি ৫৮, সিট ভাড়া ৪৪০, সংস্থাপন খরচ ৪৪০, আবাস পরিদর্শন ফি ১১, ছাত্র সাহায্য তহবিল ফি ২৫ টাকা, ছাত্রকল্যাণ তহবিল ফি ১১ টাকা, ছাত্রকল্যাণ ফি ১১ টাকা, পরিচয়পত্র ফি ২২ টাকা, রোভার স্কাউটস ফি ২২ টাকা, উস ফি ২৪ টাকা, বিএনসিসি ফি ৪০ টাকা, চিকিৎসা ফি ৬১ টাকা, গ্রন্থাগার কার্ড ফি ৩০ এবং সেশন ফি ২২০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। যার মোট পরিমাণ ৩ হাজার ১১০ টাকা। তবে বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ও ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদভুক্ত বিভাগের শিক্ষার্থী না হলে ল্যাবরেটরি ফি দিতে হয় না। তবে বিভাগ, বর্ষ ও হলভেদে টাকার পরিমাণে কিছুটা তারতম্য হলেও তা খুবই সামান্য।
অন্যদিকে সমাজবিজ্ঞান অনুষদভুক্ত অর্থনীতি বিভাগের অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে ২ হাজার ২৫০ টাকা ফি। যদিও বিভাগ ও বর্ষভেদে টাকার পরিমাণে কিছুটা তারতম্য হয়। এ বিভাগে যে যে খাতে ফি নেয়া হচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে ভর্তি ফি ১১২ টাকা, বেতন ২৬৪ টাকা, গ্রন্থাগার ফি ২২৩ টাকা, রেজিস্ট্রেশন ফি ৩৫৩ টাকা, হল উন্নয়ন ফি ৫৮ টাকা, হল ক্রীড়া ফি ৫৮ টাকা, হল ইউনিয়ন ফি ৫৮ টাকা, বিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া ফি ৫৮ টাকা, আবাস পরিদর্শন ফি ১১, ছাত্র সাহায্য তহবিল ফি ২৫ টাকা, ছাত্র কল্যাণ তহবিল ফি ১১ টাকা, ছাত্র কল্যাণ ফি ১১ টাকা, পরিচয়পত্র ফি ২২ টাকা, রোভার স্কাউটস ফি ২২ টাকা, পরিবহন ফি ৫৭৯ টাকা, উস ফি ২৪ টাকা, বিএনসিসি ফি ৪০ টাকা, চিকিৎসা ফি ৬১ টাকা, গ্রন্থাগার কার্ড ফি ৩০ টাকা এবং সেশন ফি ২২০ টাকা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী জাকারিয়া তারেক বলেন, প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক এবং শিক্ষার্থীদের ওপর নিপীড়নমূলক। দীর্ঘদিন বাড়িতে অবস্থান করায় আমরা অনেকেই এখন পরিবারের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছি। সেখানে প্রশাসন কোন জ্ঞানে ফি আদায় করতে চায়। প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্ত মোটেও ছাত্রবান্ধব নয়।
চবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন টিপু বলেন, শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ক্যাম্পাস, হল, ক্লাসরুম, লাইব্রেরির কোনো সুবিধাই ভোগ করলো না তারা সেসবের ফি কেন দেবে? করোনার কঠিন সময়ে শিক্ষার্থীদের নিজেরাই চলতে কষ্ট হয়ে যাচ্ছে, সেখানে বিশাল অংকের এই ফি নেয়া সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর এস এম মনিরুল হাসান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর যদি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মনে করে এই টাকা অতিরিক্ত নেয়া হয়েছে, তাহলে ফেরত দিতে কোনো অসুবিধা হবে না।
Leave a Reply