নিজস্ব প্রতিবেদক:
১৯২১
১ জুলাই যাত্রা শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কলা, বিজ্ঞান ও আইন—এই তিনটি অনুষদের অধীন ১২টি বিভাগ নিয়ে। সংস্কৃত ও বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস, আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজ, ফারসি ও উর্দু, দর্শন, অর্থনীতি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, গণিত ও আইন। শুরুতে আবাসিক হল ছিল তিনটি—সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, ঢাকা হল ও জগন্নাথ হল। একই বছর বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যাত্রা শুরু করে ‘আদিত্যের ক্যান্টিন’। ১৯৩৯ সালে আদিত্য চন্দ দে মৃত্যুবরণ করলে পিতার ব্যবসার হাল ধরেন মধুসূদন দে। তাঁর নামানুসারে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কলা ভবনের পাশে প্রতিষ্ঠিত হয় মধুর ক্যান্টিন। এখন যেখানে মধুর ক্যান্টিন এটি আগে ছিল নবাবদের নাচঘর।
১৯২৩
২২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন। বক্তা ছিলেন বাংলার গভর্নর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য লর্ড লিটন।
১৯২৬
১০ ফেব্রুয়ারি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ‘Meaning of Art’ I ‘The Rule of the Giant’ শিরোনামের দুটি ইংরেজি প্রবন্ধ পাঠ করেন এবং জগন্নাথ হলের বার্ষিকী ‘বাসন্তিকা’র তাঁর ‘এই কথাটি মনে রেখো’ (পরে গান হিসেবে জনপ্রিয় হয়) কবিতাটি লিখে দেন।
১৯৩৪
১ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বাঙালি উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান আহমেদ ফজলুর রহমান, যিনি স্যার এ এফ রহমান নামেই বেশি পরিচিত।
১৯৪৯
তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের আন্দোলনে সংহতি প্রকাশের ‘অপরাধে’ তখনকার ছাত্রনেতা শেখ মুজিবুর রহমানের ছাত্রত্ব বাতিল করা হয়।
১৯৫২
চূড়ান্ত রূপ ধারণ করে ভাষা আন্দোলন। কেন্দ্রবিন্দু ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৫৬ সালে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয় পাকিস্তান সরকার।
১৯৬২
এস এম শরীফ শিক্ষা কমিশনের গণবিরোধী শিক্ষানীতি বাতিলের দাবিতে ১৭ সেপ্টেম্বর হরতাল ডাকে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ। এ দিন মিছিলে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন বাবুল, মোস্তফা ও ওয়াজিউল্লাহ। সেই থেকে দিনকে ‘শিক্ষা দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়ে থাকে।
১৯৬৩
প্রথম ছাত্রী হল হিসেবে যাত্রা শুরু করে রোকেয়া হল। প্রাদেশিক সরকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে পুরনো প্রাদেশিক পরিষদ ভবনটি দিয়ে দেয়। ভবনটি জগন্নাথ হলের ছাত্রদের আবাসনের জন্য বরাদ্দ করা হয়। পরে ধীরে ধীরে আরো অনেকগুলো হল হয় শিক্ষার্থীদের জন্য।
১৯৬৬
ঐতিহাসিক ছয় দফা আন্দোলনের বছর। গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতারা।
১৯৬৮
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠন ন্যাশনাল স্টুডেন্ট ফেডারেশন বা এনএসএফের ক্যাডার সাইদুর রহমান ওরফে পাঁচপাত্তুর নিহত হন।
১৯৬৯
গণ-অভ্যুত্থানের দিনগুলোতে আন্দোলনে উত্তাল ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ এবং ছাত্র ইউনিয়ন ঐক্যবদ্ধ হয়ে ‘ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করে এবং আন্দোলনের কর্মসূচি হিসেবে ১১ দফা দাবি ঘোষণা করে।
১৯৭০
পূর্বগঠিত পাঁচটি বিভাগ নিয়ে যাত্রা শুরু করে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ। আর নবগঠিত হিসাববিজ্ঞান (অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস) ও ব্যবস্থাপনা বিভাগ (ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ) নিয়ে যাত্রা শুরু করে বাণিজ্য অনুষদ।
১৯৭১
পাকিস্তান সেনাবাহিনী আক্রমণ চালায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ১৯ জন শিক্ষক, একজন কর্মকর্তা, ২৮ জন কর্মচারী ও অসংখ্য শিক্ষার্থী।
১৯৭২
স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭২ সালের ২০ মে। একই বছর ইকবাল হলের নাম পরিবর্তন করে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল এবং এম এ জিন্নাহ হলের নাম পরিবর্তন করে সূর্য সেন হল রাখা হয়।
১৯৭৩
বিশ্ববিদ্যালয়টিকে পূর্ণাঙ্গ স্বায়ত্তশাসনের অধিকার দিয়ে পাস এবং কার্যকর হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ ১৯৭৩।
১৯৭৪
৪ এপ্রিল মুহসিন হলে নারকীয় কায়দায় হত্যা করা হয় সাত ছাত্রকে। এ বছর মৃত্তিকাবিজ্ঞান, উদ্ভিদবিজ্ঞান, প্রাণিবিদ্যা, প্রাণরসায়ন, মনোবিজ্ঞান ও ফার্মেসি বিভাগ নিয়ে গঠিত হয় জীববিজ্ঞান অনুষদ।
১৯৭৫
১৫ আগস্ট সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে যোগ দেওয়ার কথা ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের।
১৯৭৯
১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে উদ্বোধন করা হয় ভাস্কর্য ‘অপরাজেয় বাংলা’। ভাস্কর সৈয়দ আবদুল্লাহ খালিদ।
১৯৮৩
১৪ ফেব্রুয়ারি মজিদ খানের শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা স্মারকলিপি দিতে গেলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন জয়নাল, দীপালি সাহাসহ ১০ জন। এই আন্দোলন পরে এরশাদবিরোধী গণআন্দোলনে রূপ নেয়। দিনটিকে ‘স্বৈরাচার বিরোধী দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়। একই বছর বাংলাদেশ চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চারুকলা ইনস্টিটিউট হিসেবে কার্যক্রম শুরু করে।
১৯৮৪
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য চালু করা হয় পরিবহন সার্ভিস।
১৯৮৫
১৫ অক্টোবর জগন্নাথ হলের পরিষদ ভবনের ছাদ ধসে পড়ে। মারা যান ৪০ জন। নিহতদের স্মরণে প্রতিবছর এই দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ে শোক দিবস পালন করা হয়।
১৯৮৮
এ বছরই শেষ হয় ‘স্বোপার্জিত স্বাধীনতা’ নির্মাণের কাজ। ভাস্কর শামীম সিকদার।
১৯৯৪
উপাচার্য ভবনের সামনের সড়ক দ্বীপে স্থাপন করা হয় বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলক। এখানে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ১৯৪ জনের নাম লিপিবদ্ধ করা আছে। প্রাথমিক নকশা করেন স্থপতি আব্দুল মোহায়মেন ও মশিহউদ্দিন শাকের।
১৯৯৫
গঠন করা হয় ফার্মেসি অনুষদ। বাণিজ্য অনুষদের নাম বদলে রাখা হয় ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ।
১৯৯৭
১৭ সেপ্টেম্বর উদ্বোধন করা হয় ‘সন্ত্রাসবিরোধী রাজু স্মারক ভাস্কর্য’। ভাস্কর শ্যামল চৌধুরী।
২০১০
প্রতিষ্ঠিত হয় সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছাত্রত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়।
২০১৯
মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রতিষ্ঠা করা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফর পিস অ্যান্ড লিবার্টি।
২০২১
বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি সামনে রেখে নানা কর্মসূচির ঘোষণা দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
গ্রন্থনা : নাবীল অনুসূর্য ও অর্ক
Leave a Reply