গণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়
শিক্ষার্থীদের বাহবায় ভাসছে সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয় (গবি) প্রশাসন। করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করে বকেয়া রেখেই তত্ত্বীয় বিষয়ের পরীক্ষা নিয়েছে তারা। এ ধরনের কঠিন পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদার মানসিকতায় খুশি শিক্ষার্থীরা।
অনলাইনে বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) স্নাতক, স্নাতকোত্তর অন্যান্য সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষা শুরু হয় এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। এ নিয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) আবু হারেজ বলেন, প্রথম পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। শতভাগ উপস্থিতি হয়ে কিনা, তা এখনই বলা যাবে না৷ কারণ, উপস্থিতির তালিকা পরে সম্মিলিত করে পাঠানো হয়।
প্রসঙ্গত, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ২৬ জুন এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বলে, পূর্বের বকেয়া ও চলমান সেমিস্টারের অর্ধেক ফি পরিশোধ সাপেক্ষে শিক্ষার্থীরা সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতেন পারবেন৷
বকেয়া থাকার কারণে অনেক শিক্ষার্থীর পরীক্ষা হয়ে পড়ে অনিশ্চিত। পরে শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থী বান্ধব সিদ্ধান্ত নেয়। সংশ্লিষ্টরা বলেন, অনুষ্ঠিতব্য সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষায় (এপ্রিল ২০২১) বকেয়া পরিশোধ না করেও তত্ত্বীয় কোর্সসমূহে অংশগ্রহণ করতে পারবেন শিক্ষার্থীরা।
পরে বুধবার (৩০ জুন) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আরেক অফিস আদেশে বলা হয়, বকেয়া ও সেমিস্টার ফি প্রদানের সময়সীমা বাড়িয়ে ১২ জুন করা হয়েছে। বকেয়া ও ফি পরিশোধ না করেও পরীক্ষায় বসতে পারবেন শিক্ষার্থীরা। তবে বকেয়া পরিশোধ না করেই তাদের ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ব্যতিক্রম এই বিশ্ববিদ্যালয়। এই মহামারিতেও পূর্বের মতোই শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মীদের সম্পূর্ণ বেতন পরিশোধ করে আসছে গবি প্রশাসন। করোনার মধ্যে প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তাকে ছাটাইয়ের অভিযোগও পাওয়া যায়নি। বরং শিক্ষকদের পদন্নোতি ও নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়৷
এ নিয়ে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবরই শিক্ষার্থীবান্ধব এবং শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রতি দায়িত্বশীল। এই কঠিন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের রিজার্ভ ফান্ড থেকে এবং ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলমান রেখেছে।
তিনি আরো বলেন, গণ বিশ্ববিদ্যালয় সব সময়ই একাডেমিক, প্রশাসনিক, সাংস্কৃতিক এবং অন্যান্য বিষয়ে ব্যতিক্রমধর্মী স্বতন্ত্রতা ধরে রেখেছে। এই করোনাকালীন সময়েও তার ব্যত্যয় ঘটেনি।
প্রক্টর, রসায়ন ও পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ক্যাপ্টেন অধ্যাপক ড. জিয়াউল আহসান বলেন, আমাদের অনেক ছাত্র-ছাত্রীরা এখন গ্রামে অবস্থান করছেন৷ বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেকের আর্থিক অবস্থাও ভালো নেই৷ তাদের কথা চিন্তা করেই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে৷ করোনায় কোনো শিক্ষার্থী যেনো পড়াশোনা থেকে বেড়িয়ে না যায়, সেদিকেও লক্ষ্য রাখা হয়েছে৷
তিনি আরো বলেন, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানের ফান্ডের অবস্থাও ভালো নয়৷ তবুও ঋণ নিয়ে শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে কাজ করে চলছে গণ বিশ্ববিদ্যালয়।
এমন সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা বলেন, শিক্ষার্থীবান্ধব এমন সিদ্ধান্ত এই মুহূর্তে খুবই প্রয়োজন ছিল। বরাবরই আ
Leave a Reply