মোঃছাবির উদ্দিন রাজু
মুসলিম উম্মার কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এবারো কিশোরগঞ্জের ভৈরবে দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন ছোট-বড় অসংখ্য খামারি। কিন্তু মহামারী করোনার সংক্রামণ ফের বেড়ে যাওয়ায় এবং ঈদের আগে কঠোর লকডাউন শুরু হওয়ায় কোরবানির পশু বিক্রি নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় পড়েছেন খামারিরা।
জেলার পৌর শহরের জগন্নাথপুর, কমলপুর, চন্ডিবের, কালিপুরসহ উপজেলার শিমুলকান্দি, আগানগর, গজারিয়া, সাদেকপুর, শ্রীনগর, কালিকাপ্রসাদ ও শিবপুর ইউপির বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় ঈদের বাজার ধরতে ছোট-বড় প্রায় ৩ হাজার খামারে ১০ হাজার কোরবানির পশু লালন-পালন করা হচ্ছে। খড়, ভাতের মাড়, খৈল, কুড়া, ভুষি ও সবুজ কাঁচা ঘাসের মাধ্যমে দেশীয় পদ্ধতিতে এসব পশু লালন-পালন করা হচ্ছে।
শুধু তাই নয়, প্রান্তিক পর্যায়েও একটি, দুটি বা তিনটি করে কোরবানির পশু মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন প্রান্তিক খামারিরা। কিন্তু গেল বছর মহামারী করোনার কারণে হাটে দাম পড়ে যাওয়ায় অনেক খামারি লোকসানের সম্মুখীন হয়। ফলে অনেক পশু অবিক্রীত থেকে যায়। পরে সেই সব পশু খামারিরা স্থানীয় হাট-বাজারে কসাইদের কাছে কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হন।
গতবারের লোকসান পুষিয়ে নিতে এবারও যখন ব্যাপক হারে পশু পালন করা হচ্ছে। তখন ফের দেশে বাড়ছে করোনার সংক্রামণ। ফলে সারা দেশের মতো ভৈরবেও চলছে কঠোর লকডাউন। আর এই কারণে হাটগুলোতে কোরবানির পশু বিক্রি নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় পড়েছেন এখানকার শত শত খামারিরা
শিমুলকান্দি ইউপির গোছামারা গ্রামের প্রান্তিক খামারি মুছা মিয়ার সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, এবার তিনি দেশীয় জাতের দুটি ষাঁড় গরু লালন-পালন করছেন। ভেবে ছিলেন এবার তিনি অনেক লাভবান হবেন। কিন্তু করোনার কারণে হাটে দাম পড়ে যায় কিনা, এ নিয়ে তিনি দুঃশ্চিন্তায় ভুগছেন।
একই গ্রামের আরেক খামারি আক্তার হোসেন জানান, গেল বছরের লোকসান পুষিয়ে নিতে এবার তিনি বেশ কয়েকটি গরু লালন-পালন করে আসছিলেন। কিন্তু ফের দেশে করোনার সংক্রামণ বেড়ে যাওয়া হতাশ হয়ে পড়েছেন তিনি।
আক্ষেপ প্রকাশ করে কান্দিপাড়া গ্রামের খামারি রুবেল মিয়া বলেন, কপালে কি আছে, একমাত্র আল্লাহই জানেন। এছাড়াও মহামারী করোনার কারণে লোকসানের সম্মুখীন হওয়া খামারিদের পাশে দাঁড়াবে সরকার। এমনটাই প্রত্যাশা এই অঞ্চলের শত শত খামারিদের।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. রফিকুল ইসলাম খান জানান, এবার করোনার কারণে পশু লালন-পালন কিছুটা কমে গেলেও ভৈরবে ছোট-বড় প্রায় ৩ হাজার খামারে ১০ হাজার কোরবানির পশু লালন-পালন করা হচ্ছে। ফলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে আশপাশের জেলা-উপজেলায় এখানকার কোরবানির পশু সরবরাহ করা যাবে। তাছাড়া গত বছর করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের প্রণোদনা দেয়া হয়ে ছিল। এবারো ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের তালিকা তৈরি করে তাদের জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হবে
Leave a Reply