ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় গ্রাম্য ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ধরখার ইউনিয়নে রাণীখার গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মৃত অয়ন ভূইয়া উপজেলার রাণীখার গ্রামের ভূইয়া বাড়ির আমান উল্লাহ ভূইয়ার ছেলে। তিনি ইউনিভার্সিটি অব ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
শিক্ষার্থী অয়নের ভগ্নিপতি মো. বিল্লাল হোসেন জানান, গতকাল বিকেল থেকে ডায়রিয়ায় ভুগছিলেন অয়ন। শুক্রবার রাতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাত ১০টার দিকে রানীখার গ্রামের গ্রাম্য চিকিৎসক হুমায়ুন কবিরের কাছে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ওই চিকিৎসক অয়নকে সোডিয়াম স্যালাইন ও ওরাডক্স নামে একটি ইনজেকশন দিতে বলেন।
ইনজেকশন দেয়ার কিছুক্ষণ পরেই তার খিচুনি শুরু হয়। একপর্যায়ে তার নাক ও মুখ দিয়ে লালা বের হতে থাকে। পরে রাত ১১টার দিকে তাকে দ্রুত ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালে ভর্তির ১০ মিনিটের মাথায় ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। তিনি অয়নের মৃত্যুর জন্য গ্রাম্য চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসাকে দায়ী করেন।
ঘটনা সম্পর্কে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. নাজমুল হক বলেন, রোগীর অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। তার ১০ থেকে ১৫ বার পাতলা পায়খানা হতো। গত দুইদিন ধরে এ অবস্থা চলমান ছিল। রোগীর অবস্থা খারাপ থাকায় তাকে রাজধানীর কলেরা হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তার আগেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ধারণা করা হচ্ছে ঘন ঘন ঘন পাতলা পায়খানার কারণে তার শরীর থেকে তরল পদার্থ বের হয়ে গেছে। যার কারণে তিনি শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। এছাড়া গ্রামের কোনো অনঅভিজ্ঞ গ্রাম্য চিকিৎসকের ভুলের কারণে চিকিৎসা সেবায় ত্রুটি থাকতে পারে। তবে বিষয়টি সম্পর্কে স্পষ্ট জানা না থাকার কারণে এর বেশি বলা যাচ্ছে না।
এদিকে ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবরে স্বজনেরা হাসপাতাল প্রাঙ্গনে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় তারা গ্রাম্য চিকিৎসায় ভুলের জন্য তার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেন। ওই চিকিৎসকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
Leave a Reply