নওগাঁ প্রতিনিধি:
তার নাম আমিরুল ইসলাম। বাড়ি নওগাঁ জেলার সদর উপজেলার খাগড়া গ্রামে। গত রবিবার পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজির আহমেদ সেজে প্রতারণার অভিযোগে নিজ বাড়ি থেকে আটক হন তিনি।
জানা গেছে, শুধু আইজিপি সেজেই নন, পুলিশের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পরিচয় ও ছবি ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সর্বশেষ অনলাইন কলিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপে আইজিপি ড. বেনজির আহমেদ সেজে এক ডিআইজিকে “হাই” লেখাই কাল হয় তার জন্য।
এক প্রেসব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান নওগাঁর পুলিশ সুপার (এসপি) প্রকৌশলী আবদুল মান্নান মিয়া।
তিনি বলেন, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজির সরকারি ফোন নম্বর দিয়ে খোলা হোয়াটসঅ্যাপ আইডিতে আইজিপির ইউনিফর্ম পরা ছবিযুক্ত একটি হোয়াটসঅ্যাপ থেকে “হাই” মেসেজ আসে। কিন্তু, মোবাইল ফোনে সেভ করা আইজিপির নম্বরের সঙ্গে এই নম্বরের কোনও মিল না থাকায় সন্দেহ হয় ডিআইজির। নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরটিতে কল করেন। কিন্তু কেউ রিসিভ করে না। পরে বিষয়টি আইজিপিকে জানানো হলে তিনি ওই হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ব্যবহারকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
এসপি বলেন, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে নির্দেশনা পেয়ে জেলা পুলিশের সাইবার টিমের সভাপতি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজিউর রহমানের নেতৃত্বে টিমের অন্যান্য সদস্যরা ওই নম্বর ব্যবহারকারীর পরিচয় শনাক্ত করে তাকে আটক করে ও ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি জব্দ করে।
অভিযুক্তকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার জানান, প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন আগে তিনি নিজের হোয়াটসঅ্যাপ আইডিতে আইজিপির ইউনিফর্ম পরা ছবি এবং নাম বসান। এরপর পুলিশের বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে মেসেজ পাঠান। পরে এসব মেসেজের স্কিনশট দেখিয়ে বিভিন্ন মানুষের কাছে বলে বেড়াতেন যে, তার সঙ্গে বড় বড় অফিসারদের সম্পর্ক আছে। পাশাপাশি পুলিশ অফিসারদের ছবি ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা ও এলাকায় প্রাধান্য বিস্তারের চেষ্টা করতেন। এমনকি এলাকার মানুষের সাথে খারাপ আচরণ এবং মারামারি করতেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, এসবের মাধ্যমে তিনি অবৈধ সুবিধা নিয়েছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া গেছে। তবে তিনি কারও কাছ আর্থিক লেনদেন বা সুবিধা লাভ করছেন কি-না তা জানতে সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে। তার বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করা হয়েছে।
Leave a Reply