নিজস্ব প্রতিবেদক:
অঙ্গনেও কিছু উত্তাপ নিয়ে আসবে। জাতীয় নির্বাচনের আগের বছর এটি। ২০২৩ সালের শেষদিকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পরিকল্পনা, নতুন বছরে দল গুছিয়ে, আন্দোলন মোকাবিলা করে নির্বাচনী বৈতরণি পার হওয়া। বিপরীতে বিএনপির লক্ষ্য, রাজপথের সব দাবিকে এক দফার আন্দোলনে পরিণত করা। দুটি দলই নজর দেবে নির্বাচনী মোর্চা বড় করার দিকে
নতুন বছরে দল পুরোপুরি গুছিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে আওয়ামী লীগ। লক্ষ্য আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এজন্য জোটে শরিকের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতা। নির্বাচনী মোর্চা গড়া, ১৪ দলীয় জোটের ঐক্য অটুট রাখা এবং বাম ও ইসলামী দলগুলোর সঙ্গে দূরত্ব কমিয়ে আনার উদ্যোগ থাকবে দলটির। পাশাপাশি প্রস্তুতি নিচ্ছে নতুন বছরে ‘সম্ভাব্য’ সরকারবিরোধী আন্দোলন মোকাবিলার। এ জন্য তৃণমূল পর্যায়ে দলের নেতাকর্মীদের সাংগঠনিকভাবে প্রস্তুত করা হবে।
আওয়ামী লীগের কয়েকজন নীতিনির্ধারক নেতা জানিয়েছেন, ২০২৩ সালের শেষের দিকে কিংবা ২০২৪ সালের শুরুর দিকে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা। এর আগে নতুন বছরের মধ্যে আওয়ামী লীগের জাতীয় ত্রিবার্ষিক সম্মেলন আয়োজনের উদ্যোগ রয়েছে। তার আগে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সাংগঠনিক জেলাসহ উপজেলা, থানা, পৌরসভা, ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ের সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তুতি রয়েছে।
তৃণমূল সম্মেলনের পর পুরোদমে আগামী সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া হবে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর বেশ কয়েকজন সদস্য। সেই ক্ষেত্রে প্রথমেই সংসদের ৩০০ আসনে দলীয় প্রার্থী বাছাই করার জন্য মাঠ পর্যায়ে জরিপ কার্যক্রম চালানো হবে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার মাধ্যমে এই জরিপ চালানোর প্রস্তুতি রয়েছে। এরপর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরিকের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
তাদের ভাষায়, জাতীয় পার্টিকে নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তা থাকলেও নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে তাদের আরও কাছে টানার ভাবনা আছে। ১৪ দলীয় জোটের শরিকদের সঙ্গে সম্পর্কের আরও উন্নয়ন ঘটানোর উদ্যোগ থাকবে। সেই সঙ্গে ভোটের হিসাব-নিকাশ মেলানোর জন্য কয়েকটি ইসলামী দলের সঙ্গে সখ্য বাড়ানোর চিন্তাভাবনা রয়েছে। একই চিন্তা রয়েছে কয়েকটি বামপন্থি রাজনৈতিক দল নিয়েও। এ ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেলে নির্বাচনী জোটের পরিধি বাড়ানো সম্ভব হবে।
জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ গোছানই আছে। তবে নতুন বছরে আরও পূর্ণতা আনা হবে। মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা ও উপজেলাগুলোর সম্মেলন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, নতুন বছরে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন শেষ হওয়ার পর মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সম্মেলনের কার্যক্রম শুরু হবে। প্রায় বছরজুড়েই সম্মেলন প্রক্রিয়ায় দলের নেতাকর্মীরা সম্পৃক্ত থাকবেন। এর মধ্য দিয়ে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সরকারবিরোধী সম্ভাব্য আন্দোলন মোকাবিলায় সাংগঠনিক প্রস্তুতি নেওয়া হবে।
২০২২ সালের ২১-২২ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের তিন বছর মেয়াদি কার্যনির্বাহী সংসদের মেয়াদ শেষ হবে। এর এক মাস আগে মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা, উপজেলা, থানা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড শাখার সম্মেলন করার উদ্যোগ থাকবে। দলের চার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল-আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, ড. হাছান মাহমুদ এবং আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমসহ আট সাংগঠনিক সম্পাদক তৃণমূল পর্যায়ে সম্মেলন কার্যক্রম গুছিয়ে আনার কাজ করছেন।
সাংগঠনিক সম্পাদকদের মধ্যে আহমদ হোসেন সিলেট, বি এম মোজাম্মেল হক খুলনা, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন চট্টগ্রাম, এস এম কামাল হোসেন রাজশাহী, মির্জা আজম ঢাকা, অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন বরিশাল, শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল ময়মনসিংহ এবং সাখাওয়াত হোসেন শফিক রংপুর বিভাগের আওতাধীন ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, পৌরসভা, থানা, উপজেলা ও জেলা সম্মেলন আয়োজনের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করছেন।
এদিকে অনেক বছর আগেই আওয়ামী লীগের বেশির ভাগ জেলা, উপজেলা, থানা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড শাখা কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। তৃণমূল পর্যায়ের কমিটিগুলোর অনেক নেতা মারাও গেছেন। প্রায় দুই বছর আগে সম্মেলন হলেও কয়েকটি জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি এখনও অনুমোদন পায়নি। এ নিয়ে সংশ্নিষ্ট জেলাগুলোতে সাংগঠনিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। বেশ কয়েকটি জেলায় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক থাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রমে কিছুটা স্থবিরতা এসেছে বলে মনে করছে আওয়ামী লীগ। পাশাপাশি দ্বন্দ্ব-বিবাদ লেগেই আছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে নানামুখী জটিলতা তৈরি হয়েছে। নতুন বছরে এ সব ঘটনার সমাধান আসবে বলে নেতারা মনে করছেন।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকরা জানিয়েছেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পর ঝড়োগতিতে মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা ও উপজেলা কমিটিগুলোর সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু হবে। এর মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পঞ্চগড়, দিনাজপুর, গাইবান্ধা, নওগাঁ, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, বরগুনা, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর, জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, ঢাকা, গাজীপুর, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা দক্ষিণ, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রাম মহানগর, চট্টগ্রাম দক্ষিণ, কক্সবাজার ও রাঙামাটি জেলা সম্মেলন করা হবে।
Leave a Reply