রাজশাহী প্রতিনিধি:
দপ্তরে জোরপূর্বক প্রবেশ করে সচিবের ওপর হামলা ও ত্রাস সৃষ্টির মামলায় রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও ক্রীড়া অফিসারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। সোমবার রাজশাহী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৪-এর বিচারক ফয়সাল তারেক শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
আসামিরা হলেন- রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (মাধ্যমিক) মঞ্জুর রহমান খান এবং উপসচিব (ক্রীড়া অফিসার) ওয়ালিদ হোসেন। মুঞ্জুর রহমান খান শিক্ষা বোর্ড অফিসার্স কল্যাণ সমিতির সভাপতি ও ওয়ালিদ হোসেন সাধারণ সম্পাদক।
মামলার এজাহারে বলা হয়, শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক মোয়াজ্জেম হোসেন ২০২১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বোর্ডের হিসাব বিভাগের উপপরিচালক অধ্যাপক বাদশা হোসেনের সঙ্গে নিজ দপ্তরে বৈঠক করছিলেন। এ সময় বোর্ডের উপসচিব ওয়ালিদ হোসেন ও হিসাব কর্মকর্তা মানিক চন্দ্র সেন তাঁর কক্ষে জোর করে কক্ষে প্রবেশ করেন। তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে ওয়ালিদ হোসেন সচিবকে চড় মারতে উদ্যত হন। কিছুক্ষণ পরেই কক্ষে প্রবেশ করেন উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মঞ্জুর রহমান খান। তারা সংঘবদ্ধ হয়ে সচিবের কক্ষে তাণ্ডব চালান।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত বছর ১৮ অক্টোবর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সাবেক সচিব অধ্যাপক মোয়াজ্জেম হোসেন বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে রাজশাহী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলা দায়ের করেন। ওই বছরের ৩ নভেম্বরের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) রাজশাহী অঞ্চলের পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন আদালত। পরে পিবিআই পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। তবে এই প্রতিবেদনে আসামি মঞ্জুর রহমান খান ও ওয়ালিদ হোসেনকে সরাসরি অভিযুক্ত করা হয়নি। ফলে পিবিআইয়ের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে বাদী আদালতে নারাজি দাখিল করেন। আদালতও পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করেননি। বাদীর অভিযোগটিই আমলে নিয়ে দুই আসামির বিরুদ্ধে সমন জারির আদেশ দেন।
এদিকে সমন পেয়েও সোমবার মামলার নির্ধারিত দিনে দুই আসামি মঞ্জুর রহমান খান ও ওয়ালিদ হোসেন আদালতে হাজির হননি। আসামিদের অনুপস্থিতিতে শুনানি শেষে আদালতের বিচারক ফয়সাল তারেক দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। নগরীর রাজপাড়া থানা পুলিশকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে শিক্ষা বোর্ডের উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (মাধ্যমিক) মঞ্জুর রহমান খান বলেন, ‘আদালতের সমন আমরা পাইনি। এ কারণে নির্ধারিত দিনে (সোমবার) আদালতে হাজিরও হইনি। এ ছাড়া ঘটনার পর গঠিত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন এবং পিবিআইয়ের প্রতিবেদন আমাদের পক্ষেই রয়েছে। এর পরও আদালত আমাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। মামলাটি সত্য নয়। আইনিভাবে মোকাবেলা করা হবে। ’
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট একরামুল হক জানান, দুই আসামি যেদিন জামিনের জন্য আদালতে উপস্থিত হবেন সেদিনই বোর্ড কর্তৃপক্ষ তাদেরকে সাময়িক বরখাস্ত করতে পারবেন। সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আদালতের কাছে আবেদন করা হবে বলেও জানান তিনি।
Leave a Reply