মোঃ ইব্রাহিম শেখ চট্টগ্রাম ব্যুরোঃআবারও আলোচনায় কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের
(কেজিডিসিএল) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আলী মোহাম্মদ আল মামুন। তিনি ঘুষ নিয়ে দুটি ফিলিং
স্টেশনে অবৈধ সংযোগ দিয়েছিলেন, এবার এমন অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
সঙ্গে আছে স্বজনপ্রীতি, ঘুষ নিয়ে এক সহকারী প্রকৌশলীকে গৃহ এক্সটেনশনের নামে সরকারি অর্থ তছরুপ ও
সরকারি প্রজ্ঞাপন এড়িয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বাণিজ্যিক গ্যাস সংযোগ দেওয়ার অভিযোগ। এর আগে বকেয়া বিল
আদায় না করেই এ কে এস স্টিলকে জাতীয় গ্রিড থেকে হট টেপিংয়ের মাধ্যমে গ্যাস সংযোগ ইস্যুতে আলোচনায়
এসেছিলেন তিনি।
সম্প্রতি এসব অভিযোগ তদন্তে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত নভেম্বরে ৪টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের
তথ্য চেয়ে কেজিডিসিএলকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। দুদকের সহকারী পরিচালক রুহুল আমিন আছেন তদন্তের
দায়িত্বে। চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কেজিডিসিএলের এক কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি
বলেন, ‘নভেম্বরের শেষ দিকে চিঠি পেয়েছি। দুদক সুনির্দিষ্ট ৪টি অভিযোগ উল্লেখ করে সেগুলোর তথ্য চেয়েছে।
তবে এর অগ্রগতি কতটা তা বলতে পারছি না, দেখে জানাতে হবে।
দুদকের এ চিঠি ঘিরে ব্যাপক আলোচনা ও গুঞ্জন চলছে কেজিডিসিএল কর্মকর্তাদের মধ্যে। ‘অফিসিয়াল সিক্রেট’
বিবেচনায় প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা এ নিয়ে গণমাধ্যমে সরাসরি মুখ খুলছেন না।
২০১৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র চার মাস কেজিডিসিএলের এমডি হিসেবে ছিলেন আলী মোহাম্মদ আল মামুন।
পরে ২০২০ সালের ২৩ নভেম্বর দায়িত্ব পান পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইন্স) হিসেবে। সেখানে
প্রায় দেড় বছর কর্মরত ছিলেন। অবসর নেওয়ার আগে ছিলেন কেজিডিসিএলের বোর্ড মেম্বার। এসব দায়িত্বে
থাকাকালে অনিয়ম ও দুর্নীতির পাহাড় গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
দুদকের অভিযোগ প্রসঙ্গে আলী মোহাম্মদ আল মামুন বলেন আমি কেজিডিসিএলে দায়িত্বে ছিলাম মাত্র চার মাস।
ওই সময়ের মধ্যেই সেখানে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি ধরি। যাদের অনিয়ম ধরেছি, তারাই এগুলো করাচ্ছে।
আমি বর্তমানে অবসরে আছি।
কেজিডিসিএল সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের গেজেট অনুসারে সিএনজি স্টেশনে গ্যাস সংযোগ বন্ধ রাখার নির্দেশ
দেওয়া হয়। এরপর ২০১৯ সালের ১৫ মের গেজেটেও একই আদেশ বহাল থাকে। কিন্তু এ আদেশ এড়িয়ে
চট্টগ্রামের হাটহাজারীর মেসার্স আলাওল ফিলিং স্টেশন ও দৌলতপুরের মেসার্স ফোর স্টার ফিলিং স্টেশনকে
অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ থানা এলাকার হোটেল নিরিবিলি, দক্ষিণ হালিশহরের এমরান হোটেল অ্যান্ড
রেস্টুরেন্টসহ নগরীর আরও ৪টি হোটেলে অবৈধ বাণিজ্যিক গ্যাস সংযোগ দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
Leave a Reply