নিজস্ব প্রতিবেদক:
মহান মে দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে র্যালি ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশন। সোমবার (১ মে) সকাল ১০ টায় র্যালি বের হয়। র্যালি শেষে প্রেস ক্লাবের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিড়ি শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, বিড়ি কারখানাগুলোতে সপ্তাহে ৬ দিন কাজের ব্যবস্থা এবং বিড়ির ওপর শুল্ক কমানোর দাবি জানান তারা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার যখন দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, তখন স্বাধীনতা বিপক্ষের শক্তি দেশের উন্নয়নকে ক্ষতিগ্রস্ত করার লক্ষ্যে নানান ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এ ছাড়া মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বিরোধিতা করে আমেরিকা-ব্রিটিশ সপ্তম নৌবহর পাঠিয়েছিলেন। আমরা বিড়ি শ্রমিকরা ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছি, দেশকে পাকিস্তানি হানাদারবাহিনীর হাত থেকে মুক্ত করেছি।
২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকো কোম্পানির দালালেরা বিড়িশিল্পের শুল্ক বৃদ্ধির জন্য ষড়যন্ত্র করছে। এর সাথে শোনা যাচ্ছে, কতিপয় সংসদ সদস্য ও দু-একজন সাবেক মন্ত্রীও এই ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত আছেন। আমরা অনুরোধ করছি আপনারা ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকো কোম্পানির ফাঁদে পা দিবেন না। ওরা আমাদের শত্রু, দেশের শত্রু, সরকারের শত্রু। ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকো কোম্পানির সিগারেটে এ দেশের মানুষের ফুসফুস পুড়িয়ে বিদেশে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করছে।
বক্তারা আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী অতিতেও বিড়ি শ্রমিক তথা শ্রমজীবী মানুষের সাথে ছিলেন, বর্তমানে আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন। তাইতো প্রধানমন্ত্রী সংসদের এক বাজেট বক্তৃতায় বলেছিলেন, ‘বিড়ি সাধারণত আমাদের গরিব মানুষ ব্যবহার করে। এই বিড়ি বানাতে আমাদের গরিব মানুষ, নারী শ্রমিক ও সাধারণ শ্রমিকরা একটা শ্রমের সুযোগ পায়, তারা কাজ পায়। এখানে (বিড়ির উপর) মূসক বৃদ্ধির প্রস্তাব বাদ দিয়ে বরং সিগারেটের উপর একটু বেশি কর বাড়িয়ে দিতে হবে।’
তাই প্রধানমন্ত্রীর নিকট আমাদের একটাই দাবি, আমাদের তথা শ্রমজীবী বিড়ি শ্রমিকদের রক্ষার্থে বিড়ি শিল্প হতে ১৮ টাকা থেকে ২ টাকা কমিয়ে ১৬ টাকা শুল্ক নির্ধারণ করে দিন। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের দিনে আপনি আমাদের দাবি মেনে নিলে মহান মে দিবসের চেতনা সকলের মাঝে উদ্বুদ্ধ হবে।
Leave a Reply